কক্সবাজার প্রতিনিধি : পয়লা বৈশাখ সামনে রেখে অবাধে ধরা হচ্ছে জাটকা। কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়াছড়ার পাইকারি মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে বিপুল পরিমাণ জাটকা বিক্রি হচ্ছে। জাটকা কিনতে ভিড় করছেন ব্যবসায়ীরা।
এই দিকে নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। কিন্তু তা মানছেন না কক্সবাজারের জেলেরা।
জাটকা কেনা ও সংরক্ষণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থানীয় এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, ‘সামনে পয়লা বৈশাখ। এই বৈশাখে কয়েক হাজার মণ ইলিশের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বাজারে ইলিশের আকাল চলছে। তাই জাটকা কিনে সংরক্ষণ করছি। এই জাটকা দিয়েই বড় বড় হোটেলে পান্তা-ইলিশের আয়োজন হবে।’
অন্য এক ব্যবসায়ী জানান, দুই মাস ধরে সাগরে ইলিশ ধরা পড়ছে না। তাই জেলেরা সাগরের কাছাকাছি এলাকায় গিয়ে জাটকা ধরে আনছেন।
তাছাড়া জাটকা সংরক্ষণ সময়ে জেলেদের সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি চালু থাকলেও কক্সবাজারের জেলেরা এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত। ফলে অনেকে জীবিকার তাগিদে জাটকা ধরছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অমিতোষ সেন বলেন, জাটকা নিধন বন্ধে সাগরে কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের নিয়মিত অভিযান চলছে। কিছুদিন আগে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩০ কেজি জাটকা জব্দ করা হয়। উপকূল থেকেও জাটকা নিধনের কয়েক লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও বিহিন্দিজাল জব্দ করা হয়েছে। জাটকা নিধন বন্ধে শিগগিরই ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র্যা ব, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বিজিবি সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানো হবে।
সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি জানান, কক্সবাজারে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৩৮ হাজার ৫১৯ জন। জাটকা সংরক্ষণ সময়ে প্রতিজন জেলেকে মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। কিন্তু অধিদপ্তরের শর্তের কারণে এখানকার জেলেরা সরকারি এই খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত। অধিদপ্তরের শর্তে উল্লেখ আছে, যেসব জেলে শুধু জাটকা আহরণের ওপর নির্ভরশীল তাঁরাই সরকারি এই খাদ্য সহায়তা পাবেন। কিন্তু কক্সবাজারের জেলেরা জাটকার সঙ্গে অন্য মাছও ধরছেন।

Comments are closed.