জিয়াউল হক, রাঙামাটি : রাঙা সূর্যকে অভিবাদন আর বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে শুরু হয় বৈশাখের প্রথম সকাল। এসময় শিল্পী কণ্ঠে সুর ওঠে “এসো হে বৈশাখ এসো এসো”। বাংলা নববর্ষকে ঘিরে দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে পার্বত্যাঞ্চলের আয়োজন ও উৎসবটা একটু অন্যরকম। রাঙামাটির বিভিন্ন স্তরের জনসাধারণের উপস্থিতি রঙ-বেরঙের ফেস্টুনে শুরু হয় আনন্দ শোভাযাত্রা।
বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের গিয়ে শেষ হয়।
পুরনোকে বিদায় জানিয়ে নতুন দিনের স্বপ্নের মালা গাঁথার বারতা নিয়ে আসে বাংলার পহেলা বৈশাখ। শুরু হয় বাংলা সালের নতুন একটি বছর। এটি বাঙালির বর্ষপঞ্জি। উৎসব প্রিয় বাঙালি জাতির নানার আয়োজনের মধ্যে এ যেনো কেবলই বাঙালির নিজের করে উদযাপনের উপলক্ষ। পয়লা বৈশাখ তাই বাঙালির প্রাণের দিন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পথচলা শুরু করার দিন। নতুন বছরের প্রথম দিনটি বাঙালির জন্য নিয়ে আসে নতুন স্বপ্ন, নতুন পরিকল্পনা। তাই বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টীয় ক্যালেন্ডারের সরব ব্যবহারের এই সময়েও পয়লা বৈশাখে দোকানিরা খোলেন নতুন খাতা। কৃষিজীবিরা বোনেন নতুন স্বপ্ন। বাংলার মানুষ দিনটি কাটাতে চায় নির্বিরোধ, সাবলীলভাবে। চলে নানা আয়োজন আর আনন্দের নানা অনুসঙ্গ। এই দিনটি বছরজুড়ে তার জীবনে চিত্রিত হোক, এই কামনা থাকে সবার মনে। তাই নতুন বছর মানে নতুন আশা, নতুন সংকল্প।
বৈশাখের প্রথম সকালে শোভাযাত্রার পরপরই জেলা প্রশাসক প্রাঙ্গণে শুরু হয় বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ২৯৯ নং সংসদীয় আসনের এমপি উষাতন তালুকদার, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, জেলা প্রশাসক মোঃ সামসুল আরেফিন, রাঙামাটির পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
স্থানীয় নবীণ-প্রবীণ শিল্পীদের পরিবেশনায় সঙ্গীত, কবিতা আবৃত্তি ও বাদ্যযন্ত্রের সুরমূর্ছনায় এসময় তুলে ধরা হয় বাঙালির হাজারো বছরের ঐতিহ্যবাহি সংস্কৃতি। সাথে পরিবেশিত হয় পান্তা ইলিশ।
সকলেই তাদের বক্তব্যে পুরনো দিনের সমস্ত গ্লানি মুছে ফেলে আগামী দিনে নতুন সম্ভাবনার আলো জ্বালাতে সকল বয়সের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। আমাদের মাঝে প্রবেশ করা নতুন বছরটিতে যেনো দেশ ও দেশের মানুষ শান্তি ও স¤প্রীতির মাঝে বসবাস করতে পারে সকলের কণ্ঠে সেই আশাবাদ প্রতিধ্বনিত হয়।

Comments are closed.