সিটিনিউজবিডি : ভূমি সংক্রান্ত সকল সুবিধা বাড়ানো, আধুনিক ও দক্ষ ভূমি প্রশাসনের মাধ্যমে জনসেবার মানোন্নয়ন করতে সারাদেশে তিন হাজার একশ’ ভূমি অফিস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
আগামী ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে এটি বাস্তাবায়ন করা হবে। এতে প্রায় খবচ হবে দুই হাজার ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আর এতে সহয়তা করবে ভূমি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশ শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণ, শহর ও ইউনিয়নে মোট দুই হাজার ৬৫০টি ভূমি কার্যালয় নির্মিত হবে। দুই তলা ভিত্তির এসব ভূমি কার্যালয়ের আয়তন হবে এক হাজার ৩৫ বর্গমিটার। উপকূল ও হাওরে এক হাজার ৩৫ বর্গমিটারের ৪৫০টি ভূমি কার্যালয় হবে। থাকবে উন্নতমানের সীমানা প্রাচীরও।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সূত্রে আরো জানা যায়, আমাদের সমগ্র দেশে ভূমি অফিসের অবস্থা জরাজীর্ণ। কিছু জায়গায় ভূমি অফিস থাকলেও সেগুলো সেভাবে কার্যকর নেই। অনেক ইউনিয়নে ভাড়া বাসায় কোনো রকমে ভূমি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এসব ভূমি অফিসের বেহাল দশার কারণে খাজনা বা রাজস্ব আদায় সংশ্লিষ্ট মূল্যবান রেকর্ড যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। পাশাপাশি জনসাধারণকেও সঠিক সেবা দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। উপকূলে ভূমি অফিসের অবস্থা আরো খারাপ। এসব কথা চিন্তা করেই সারাদেশের সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়নে নতুন করে ৩১০০টি ভূমি কার্যালয় নির্মাণ করা হবে।
ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের আপাদমস্তক দুর্নীতিমুক্ত করার কাজ শুরু করেছি। ভূমি সংক্রান্ত সব কার্যক্রমে মানুষের দুর্ভোগ ও হয়রানি কমাতে ভূমি ব্যবস্থাপনায় কঠামোগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। অচিরেই ভূমি ব্যবহার নীতিমালা আরো যুগোপযোগী ও গঠনমূলকভাবে সংস্কার করা হবে। প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সারাদেশে ভূমি অফিস বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলমান।
তাছাড়া নকশা, পর্চা, খাজনা, নামজারি সবকিছুই প্রযুক্তি দিয়ে করার চেষ্টা চালাচ্ছি। তাই শুধু ভূমি অফিস বাড়ানো নয়, এসব অফিসের চিরায়ত দুর্নীতির আখড়ার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে প্রযুক্তির মাধ্যমেই কিছুটা হলেও পরিশুদ্ধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

Comments are closed.