জিয়াউল হক, রাঙামাটি প্রতিনিধি : জল বর্ষণের মাধ্যমে এখনো পার্বত্যাঞ্চলে চলছে সাংগ্রাইয়ে উৎসব। শনিবার শহরের আসামবস্তি নারিকেল বাগানে পার্বত্যাঞ্চলের মারমা জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব সাংগ্রাইয়ে জলকেলি বা পানি উৎসব ও সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
রাঙামাটি সদর উপজেলা মারমা সম্প্রদায় আয়োজিত জলকেলিতে এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। এতে গেস্ট অব অনার ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য হাজি মুছা মাতব্বর। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য অংসুপ্রু চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন মারমা সাংস্কৃতিক সংস্থা(মাসাস) এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মংউচিং মারমা ময়না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বৃষ কেতু বলেন, ১৯৯৭ সালের শান্তি চুক্তির আগে এই সাংগ্রাই উৎসবের কথা চিন্তাও করা যেত না। শান্তি চুক্তির পর পাহাড়ে শান্তি বিরাজ করায় প্রতিবছর আমরা এই উৎসব পালন করে থাকি। পার্বত্যাঞ্চলে প্রতিটি জনগোষ্ঠীর আলাদা আলাদা ভাষা ও নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে। নিজেরাই যদি এসব ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা না করি তবে তা হারিয়ে যাবে। তাই প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর মানুষের উচিত নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার্থে কাজ করে যাওয়া।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিগণ ঘণ্টা বাজিয়ে জলকেলি উদ্বোধন করেন। এরপর সকলে একে-অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে সকল অবসাদ দূর করে দেয়। জলকেলি অনুষ্ঠানের পর মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহি গান ও নাচ পরিবেশন করা হয়। বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে আগত কয়েক হাজার মারমা নারী-পুরুষ একে-অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে উৎসব পালন করতে থাকে।

Comments are closed.