ঢাকা : নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইন কার্যকর নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ব্যবসায়ী সমাজে। গত কয়েক দিনে একাধিকবার অর্থমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আইন কার্যকর হচ্ছে এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাটের বিধান চালু হচ্ছে আসছে জুলাই মাসেই। সর্বশেষ রোববার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সভা করেছে এফবিসিসিআই। এ সভায় ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও এনবিআর চেয়ারম্যান। এরপর সোমবার ঢাকা চেম্বারের (ডিসিসিআই) নেতারা সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া এ মাসের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ীরা দেখা করবেন বলে জানা গেছে।
২০১৩ সালে একবার ভ্যাট আইন প্রথা বিলোপের চেষ্টা করা হলেও ব্যবসায়ীদের বিরোধিতায় তা সম্ভব হয়নি। তবে এবার এটি কার্যকর করার ব্যাপারে দৃঢ়তা প্রদর্শন করছে সরকার। আসছে বাজেট নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এনবিআর ও অর্থমন্ত্রীর যত আলোচনা হয়েছে প্রত্যেকটিতে ব্যবসায়ীরা এ আইন কার্যকরের আগে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর কথা বলে আসছে। তবে বরাবরের মতোই এনবিআর থেকে নতুন এ আইনের সুফল বর্ণনা করেই আলোচনার ইতি টানা হয়েছে। আর সর্বশেষ এনবিআরের জাতীয় পরামর্শক কমিটির ৩৭তম সভায় অর্থমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন এবার বাজেট থেকেই ১৫ শতাংশ ভ্যাটের বিধান চালু হবে।
এর আগে এ আইন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশ দেয়ার জন্য ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও এফবিসিসিআইয়ের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সরকার কর্তৃক গঠিত এ যৌথ কমিটি বেশ কিছুটা সুপারিশ প্রদান করে। এই শেষ সময়ে এসে ব্যবসায়ীরা দৌড়ঝাঁপ করছেন মূলত এই সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্যই। এ সুপারিশের মধ্যে রয়েছে সব সরবরাহে ৩৬ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে মূসক থেকে অব্যাহতি এবং ৩৬ লাখ টাকা থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত ৩ শতাংশ টার্নওভার কর আরোপ, ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৩৬ লাখ টাকা টার্নওভারের ওপরে ২ শতাংশ মূসক আরোপ, যারা উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণে অসমর্থ তাদের ক্ষেত্রে হ্রাসকৃত মূসক আরোপ, হ্রাসকৃত হারে মূসক প্রদানকারী ও টার্নওভার কর প্রদানকারী উপকরণ কর রেয়াত নিতে পারবে না মর্মে বিধান করা এবং কর খেলাপি হিসেবে সব আত্মীয়কে বিবেচনা করার বিধান বাতিল করা অন্যতম।
এসব বাস্তবায়নে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘন ঘন বৈঠক করছেন ব্যবসায়ীরা। রোববার সচিবালয়ে এফবিসিসিআই নেতারা বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল মান্নান, অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ। আর ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন সংগঠনটির প্রথম সহসভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, তিন সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান, এ কে আজাদ, কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানসহ অন্য ব্যবসায়ীরা। সভা শেষে এ কে আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, সাত দফা চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়েই এবারের বৈঠক। সরকার মোটামুটি সম্মত হয়েছে। আমরা আশাবাদী যে সরকার আমাদের দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে। আগামীতে মূসক হার ১৫, ১২ বা ১০ শতাংশ হারে হতে পারে। শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, আমাদের চাওয়া সহনীয় পর্যায়ে মূসক আরোপ। আশা করছি, সরকার সেটিই করবে।
ব্যবসায়ীরা তো আশাবাদ প্রকাশ করেছেন যে তাদের দাবি সরকার বিবেচনা করবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে ১৫ শতাংশ মূসক বহাল আছে। ব্যবসায়ীদের চাওয়া মোটাদাগে একটাই। সেটা হচ্ছে বহু স্তরবিশিষ্ট মূসক-ব্যবস্থা হবে কি হবে না। এ ব্যাপারে বাজেটে নির্দেশনা থাকবে।
ব্যবসায়ীর মনে করছেন, নতুন এ আইনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা। যারা এতদিন প্যাকেজ ভ্যাট প্রদান করে অভ্যস্ত। এসব দোকানে ভ্যাটের হিসাব রাখা কঠিন বলে তাদের দাবি। খুব সহসাই লাখ লাখ দোকানকে পজ মেশিন কিংবা ইসিআর সিস্টেমে আনাও কঠিন। এদের ওপর ঢালাওভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করলে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিপর্যয় নেমে আসবে।

Comments are closed.