ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, “অন্যায় আবদার রক্ষা ও বেআইনি নির্দেশ পালন এবং বিধিবহির্ভূত সম্মান ও সুযোগ দিতে অস্বীকার করলেই রাষ্ট্রীয় কর্তব্য পালনে নিয়োজিত কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হাতে হেনস্তা ও নিপ্রহের শিকার হচ্ছেন। মাঠ প্রশাসন পর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।”
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে খালেদা জিয়া এ সব কথা বলেন। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন তার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “আইনের শাসনকে পদদলিত করে দেশে পেশীশক্তি-নির্ভর এক বর্বর আওয়ামী দুঃশাসন চাপিয়ে দেয়ার বেপরোয়া ও ধারাবাহিক অপপ্রয়াসে সচেতন নাগরিক সমাজ আজ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।”
খালেদা জিয়া বলেন, “অন্যায় আবদার রক্ষা ও বেআইনি নির্দেশ পালন এবং বিধিবহির্ভূত সম্মান ও সুযোগ দিতে অস্বীকার করলেই রাষ্ট্রীয় কর্তব্য পালনে নিয়োজিত কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হাতে হেনস্তা ও নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। মাঠ প্রশাসন পর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।”
নিজের নির্বাচনী এলাকা ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম রকিব হায়দারকে সম্প্রতি পিটিয়ে আহত করার ঘটনা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, “স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গুরুত্ব না দেয়ার কারণে তাকে সরকারি কর্তব্য পালনরত অবস্থায় প্রকাশ্যে মারধর করে আহত করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবাধে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন এখন কতোটা অসম্ভব ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, এই ঘটনা তার এক জ্বলন্ত প্রমাণ।”
তিনি বলেন, “সারা দেশে এই ধরণের ঘটনা অহরহ ঘটছে। কোনো ঘটনা নিয়ে বেশি তোলপাড় হলে চোখে ধুলা দেয়ার জন্য সাময়িক কিছু পদক্ষেপ নিয়ে ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো প্রতিকার বা সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে না। ফাঁকে-ফোঁকড়ে শাসক দলের কোনো নেতা-কর্মী আদালত থেকে দোষী সাব্যস্ত হলেও বিশেষ অনুকম্পায় তাদেরকে মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে।”
“ফাঁসিতে মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত আওয়ামী নেতা-কর্মীরাও ছাড়া পেয়ে নতুন নতুন ভয়ংকর অপরাধ সংঘটিত করছে। অপর দিকে বিনা দোষে মিথ্যা মামলায় বিরোধীদলের অগণিত নেতা-কর্মী ও সাধারণ নাগরিকেরা দুঃসহ নিপীড়ন ভোগ করছেন।”
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “ক্ষমতার অবৈধ দখলদারিত্ব যেন শাসক গোষ্ঠীকে স্বেচ্ছাচারিতার অবাধ ছাড়পত্র দিয়েছে। তারা দেশকে এক অসভ্যতার অন্ধকারে ডুবিয়ে দিচ্ছে।”
পরশুরামের ইউএনও’র ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, “আমি মনে করি দুর্নীতি, দুঃশাসন, স্বেচ্ছাচারিতা ও নৈরাজ্যের বর্তমান দুঃসহ পরিস্থিতির অবসান কল্পে সবার অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ভোটে একটি প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।”

Comments are closed.