ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার জুলাইয়ে কেরাণীগঞ্জে স্থানান্তর

কাজী আরমান : কেরাণীগঞ্জে নির্মিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্বোধন গত ১০ এপ্রিল সম্পন্ন হলেও এখনও বন্দি স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। গত দু’মাসে কয়েক দফায় বন্দি স্থানান্তরের উদ্যোগ নিলেও নিরাপত্তাজনিত কিছু ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা স্থগিত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

তবে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বুধবার (০৮ জুন) জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকলে ঈদ-উল ফিতরের পরের শুক্রবার বন্দিদের ঢাকা থেকে কেরাণীগঞ্জে স্থানান্তর করা হবে। এক্ষেত্রে জুলাইয়ের তৃতীয় শুক্রবার ১৫ জুলাই সম্ভাব্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, কেরাণীগঞ্জে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কারাগারটির নিরাপত্তাজনিত কিছু ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এ ত্রুটিগুলো মেরামতের কাজ চলছে। আরও ত্রুটি আছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত ১০ এপ্রিল নবনির্মিত কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্বোধনের পর থেকে বন্দি স্থানান্তরের বিষয়ে দফায় দফায় বৈঠক করে কারা কর্তৃপক্ষ।

এরপর মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সকল বন্দি স্থানান্তরের পরিকল্পনা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তা সম্ভব হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষ সময় বাড়িয়ে মে মাসের মধ্যেই স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করলেও তা সম্ভব হয়নি। কারণ, এখনও নিরাপত্তা ত্রুটি রয়ে গেছে।

এখন রমজানের পর অর্থাৎ জুলাই মাসে ঢাকা থেকে নবনির্মিত কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে ৬ হাজার বন্দি স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে কারা কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারা কর্মকর্তা বলেন, কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের পুরো এলাকার মূল নিরাপত্তা প্রাচীর এখনও তৈরি করা হয়নি। ভেতরে পানি নিষ্কাশনের জন্য তৈরি ড্রেনের কোথাও কোনো বড় ফুটো থাকলে তা লোহার গ্রিল দিয়ে বন্ধ করা, যে সেলগুলোর হ্যাজবোল্ট (দরজার ছিটকানি) দুর্বল, সেগুলো পরিবর্তন করে মজবুত করা এবং ভেতরে থাকা দালানগুলোর ছাদে ওঠার সমস্ত পথগুলো বন্ধ করা হচ্ছে। আরও কিছু ক্রটি আছে। সেগুলোও মেরামত করে সেখানে বন্দি স্থানান্তর করা হবে।

বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মোট আট হাজার বন্দির মধ্যে ছয় হাজার বন্দিকে কেরাণীগঞ্জের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করা হবে। বাকি দুই হাজার বন্দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হবে।

কারা সূত্র জানায়, কারাগারে অবস্থানরত দাগি আসামি ও জঙ্গিদের স্থানান্তরের সময় নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বন্দি স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত হবে ৪০টি বড় প্রিজনভ্যান। আর স্থানান্তরের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সহযোগিতা চাইবে কারা কর্তৃপক্ষ।

একটি ভ্যানে একবারে ৫০ জন করে তিনবারে ১শ’ ৫০ জনকে স্থানান্তরের কথা ভাবছে কারা কর্তৃপক্ষ। হিসাব অনুযায়ী, একদিনে স্থানান্তরের জন্য ৪০টি বড় প্রিজনভ্যানের প্রয়োজন। তবে ছোট আকারের হলে ছয় হাজার বন্দি স্থানান্তরে প্রয়োজন ৬০টি প্রিজনভ্যান।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেসার আলম বলেন, মে মাসেই নতুন কারাগারে বন্দিদের স্থানান্তরের যে পরিকল্পনা ছিলো, তা সম্ভব হয়নি। তবে রমজানের পর স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.