ঢাকা : চলমান গুপ্তহত্যা বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তারা কেউ রেহাই পাবে না। আমরা সবাই গ্রামে গ্রামে গিয়ে গুপ্তহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোঘ গড়ে তুলবো। গতকাল রবিবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের যৌথসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
গুপ্তহত্যা বন্ধে সরকারকে আগ্রহ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, তাদের যদি এ ব্যাপারে সত্যিকারে আন্তরিকতা থাকে তাহলে সর্বাগ্রে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গ ত্যাগ এবং গুপ্তহত্যাকারীদের উসকে দেওয়ার নীতি পরিহার করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার চক্রান্ত এখনো বন্ধ হয়নি। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক যখন থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, তখন থেকেই উনি দেশবিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত।
জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি এসব হুমকিতে হাসানুল হক ইনু শুধু নয় আমরা কেউ ভয় পাইনি। ভয় পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। যারা কাফনের কাপড় পাঠায় তারা কাপুরুষ। তাদের হুমকিতে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ব্যর্থ করার জন্য দেশের নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছিল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল। আজকেও দেশ যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, অর্থনৈতিক সর্বক্ষেত্রে উন্নতি হচ্ছে, তখনই একটি মহল বাংলাদেশকে টার্গেট করে গুপ্তহত্যা করছে। দেশ যেন শান্তিতে না চলতে পারে তখনই সুপরিকল্পিতভাবে সেই মুখচেনা মহল দেশে সহিংসতা চালাচ্ছে। কিন্তু তাদের কোনো চক্রান্ত সফল হবে না।
দেশে চলমান গুপ্তহত্যার প্রতিবাদে আগামী ১৯ জুন দেশব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি সফল করতে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের এ যৌথসভায় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দী, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্ত, জাসদের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া, গণতন্ত্রী পার্টির নূরুর রহমান সেলিম, জাসদের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আক্তার ছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ১৪ জুন ঝিনাইদহ এবং ১৭ জুন পাবনায় ১৪ দলের শান্তি সমাবেশ করার কর্মসূচি গৃহীত হয়।

Comments are closed.