গুলশানে নিহতদের শ্রদ্ধা জানাল বাংলাদেশ

ঢাকা : শোকের আবহে গুলশানে ক্যাফেতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাল বাংলাদেশ। নিহতদের স্মরণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের দ্বিতীয় দিন সোমবার সকাল ১০টায় ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে শ্রদ্ধা নিবেদনের এই আনুষ্ঠানিকতা হয়।

রাষ্ট্র প্রধান ও সরকার প্রধান থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সর্বস্তরের নাগরিক ভারাক্রান্ত হৃদয়ে স্মরণ করেন গুলশানের সেই নৃশংস হামলায় নিহত ১৭ বিদেশি নাগরিক ও ৩ বাংলাদেশিকে। মঞ্চের সামনে কালো কাপড়ের ওপর সাদা হরফে লেখা ছিলো, হলি আর্টিজান বেকারিতে নিহতদের জন্য বাংলাদেশের মানুষ গভীরভাবে শোকাহত। প্রথমে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষে মঞ্চের সামনে কালো বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রাষ্ট্রপতি ভুটানে থাকায় তার পক্ষে ফুল দেন বঙ্গভবনে দায়িত্বরত কমান্ডার মিনহাজ আলম।

রাষ্ট্রপতির পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পায়ে হেঁটে শ্রদ্ধা নিবেদন মঞ্চে গিয়ে ফুল দেওয়ার পর কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী আর্মি স্টেডিয়ামে উপস্থিত নিহত ইশরাত,ফারাজ ও অবিন্তার স্বজনদের সমবেদনা জানান। এরপর মঞ্চের সামনে উপস্থিত ভারত, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে কথা বলেন শেখ হাসিনা। চার কূটনীতিকের সঙ্গে কথা বলে স্টেডিয়াম থেকে বের হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী আবারও নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন।

এরপর বেদীতে ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ভারত, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতরা। নিহতদের পরিবারের সদস্য, বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিক, আওয়ামী লীগ, ১৪ দল, এফবিসিসিআই, নিহত পুলিশের পরিবারের সদস্য এবং ঢাকার দুই মেয়র ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় মন্ত্রিসভার সদস্য; প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা; আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ; সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান; পুলিশ মহাপরিদর্শক; র‌্যাব মহাপরিচালক এবং উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মৃতদেহ হস্তান্তরের পর বেলা ১২টা পর্যন্ত এই শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.