সকলকে পূর্নবাসন করা হবে- রাঙামাটি জেলা প্রশাসক

0

সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি,সিটিনিউজ : রাঙামাটি ভূমি ধস ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জরুরি অর্থ সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, যারা আশ্রয় কেন্দ্রে এখনো বসবাস করছে তাদেরকে পূর্বের স্থানে ফিরতে দেওয়া হবে না। আপনারা যদি পূর্বের জায়গায় ফিরে যান আবারো যদি কোন দুর্ঘটনা হয় তবে এইবারও শত শত মানুষের লাশের মিছিল বের হবে। তাই সকলকে অন্য স্থানে পূর্নবাসন করা হবে, আপনারা এতদিন যে স্থানে বসবাস করতেন সেখান থেকে পূর্নবাসন কৃত স্থানটি দূরেও হতে পারে। তবে যেখানেই হোক সকলকে পূর্নবাসনকৃত স্থানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) দুপুরে রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টি সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্রীনহিল’র আয়োজনে এবং দাতা সংস্থা একশন এইড বাংলাদেশ’র সহযোগিতায় রাঙামাটির ৯২৩ নারীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় গ্রীনহিলের নির্বাহী পরিচালক মং থোয়ই চিং’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন একশনএইড বাংলাদেশ’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সুনীল কান্তি দে। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন গ্রীনহিল’র চেয়ারপার্সন টুকু তালুকদার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, এই পাহাড় গুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনের মাধ্যমে দখল হয়েছিলো। যারা পাহাড় দখল করেছিলো তারা বিভিন্ন দামে পাহড়গুলো বিক্রয় করে। যার ফলে ক্রেতারা পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ঘর-বাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছে। যারা অবৈধ ভাবে দখল করেছে তাদের চেহারা উন্মোচন করা প্রয়োজন। এদের জন্য আজ রাঙামাটির এত সব মানুষের প্রাণ গেলো।

তিনি আরো বলেন, রাঙামাটিতে অনেক ধরণের এনজিও রয়েছে। ঋণ প্রদানকৃত এনজি’র সংখ্যা বেশি। তারা সুদ নেন না, ভদ্র ভাষায় সার্ভিস চার্স নেন। প্রতিটি ঋণ দান কৃত এনজিও অন্তত ৩০% সুদ কাটে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। তারা চাইলেই পারতো এসব দুর্গত মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে। কিছু দিতে নয়, সরকার সব কিছুই দিয়েছে। শুধু মাত্র সবাই যদি এসে দুর্গত মানুষগুলোকে দেখত এবং সহায়তা প্রদানে সহযোগিতা করতো তাহলেই হত বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে একশনএইড বাংলাদেশ’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, দূর্যোগ মোকাবেলার মূল হচ্ছে প্রস্তুতি। প্রস্তুতি থাকলে এবং সকলে সতের্ক থাকলে এত বড় ক্ষয়ক্ষতি হত না। তিনি আরো বলেন, সকলকে এখন সচেতন হয়ে এই পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করতে হবে, যাতে করে আগামীতে এমন কোন বড় ধরণের দূর্ঘটনা হতে না পারে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় এই অঞ্চলের মানুষ এখনো তেমন সচেতন নয়। পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ পাদদেশে বসবাস করা ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে মানুষকে সরিয়ে আনতে হবে। দুর্যোগ মোকাবেলা নিজেকেই করতে হবে। প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করেই অত্র অঞ্চলের মানুষকে টিকে থাকতে হয়। তাই দুর্যোগ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠান থেকে রাঙামাটি জেলার সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ২৪৮ নারীকে নয় হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৬৭৫ নারীকে চার হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.