নিজস্ব প্রতিবেদক:: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন একবার। আর ‘মুক্তি’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন পাঁচবার। ‘স্বাধীনতার চেয়ে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ শব্দ মুক্তি। মুক্তি বলতে সব বঞ্চনা, বৈষম্য, শোষণ, সংকীর্ণতা, কৃপমন্ডৃকতা, চেতনার দীনতা থেকে মুক্তি বুঝিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের মুক্তির সংগ্রাম চলছে।
গত (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নগরীর আন্দরকিল্লাস্থ নগরভবন চত্বরে স্বাধীনতা উৎসব উদযাপন পরিষদ আয়োজিত তিনদিনব্যাপীর সমাপনী দিনে স্বাধীনতার মঞ্চে ‘উন্নয়নশীল বাংলাদেশ ও আমাদের মুক্তির সংগ্রাম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের সিঁড়িতে পা রেখেছে। ২০২৪ সনে চূড়ান্ত সমাবর্তন হবে। নির্দিষ্ট তিনটি মানদন্ডের সবকটিতে উর্ত্তীণ হয়েই বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা, যে হিসাব নিকাশের ভিত্তিতে এই উত্তোরণ ঘটল এ গুলো বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত কোন পরিসংখ্যানের উপর নির্ভর করে তৈরি হয়নি। সুযোগগুলো জাতিসংঘের নিজস্ব পদ্ধতিতে তাদের সংগৃহীত পরিসংখ্যান নির্ভর। যদিও পরিসংখ্যান সব সময় সত্য কথা বলে না। ১৯০৬ সনে মার্ক টোয়েন তার আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, সংখ্যা কখনো কখনো আমাকে বিভ্রান্ত করে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বেনজামি ডিজরেলি বলেছেলেন, মিথ্যা তিন প্রকার মিথ্যা, ডাহা মিথ্যা এবং পরিসংখ্যান। যার কারণে পরিসংখ্যান ব্যবহার না করে বলা যায় বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ, বদলে গেছে বাংলাদেশ।
তিনি আরো বলেন, ৭ মার্চ ১৯৭১-এ বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ৭ কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে বলা হয় রাজনীতির কবি (পোয়েট অব পলিটিক্স)। বঙ্গবন্ধু রচিত কবিতা তার ৭ মার্চের ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের উপর গল্প, উপন্যাস, নাটক, সিনেমা এবং ভাস্কর্য তৈরি হয়েছে। কিন্তু শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যটি তৈরি করেছেন তার কন্যা বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতুর দিকে তাকালেই মনে পড়ে যাবে ‘৭ কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না’র স্থাপত্য রূপ এটি। মূখ্য আলোচনা ভাষণে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহবুদ্দিন বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে নানা রকম ভেজাল ঢুকিয়েছিলেন এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে তছনছ করেদিয়েছিলেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের দলীয়করণ করে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ শিখিয়েছিলেন। অথছ মুক্তিযদ্ধরা যখন যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন তখন জয়বাংলা শ্লোগান দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধরা দেশের সম্মানি ব্যক্তি, এর জন্য তাদের সব ধরণের সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতির ভাষণে স্বাধীনতা উৎসব উদযাপন পরিষদের কো চেয়ারম্যান বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজী মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন বলেছেন, উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে নতুন করে বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিং হবে। উন্নয়নশীল কাতারে প্রবেশ করায় এখানে বাজার সৃষ্টি হচ্ছে। এমন বার্তা বিশ্ববাসী পাবে।
স্বাধীনতা উৎসব উদযাপন পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী সংস্কৃতি কর্মী খোরশেদ আলমের সঞ্চলানায় অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে সমাপনী দিনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এড. মুজিবুল হক, স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাধীনতা উৎসব উদযাপন পরিষদের মহাসচিব লায়ন মোহাম্মদ ইলিয়াছ, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন যুগ্ম মহাসচিব সুমন দেবনাথ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নগর যুবলীগের সদস্য লিটন রায় চৌধুরী, কর্মাস কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক এজিএস এস এম মামুনুর রশিদ, মহিউদ্দিন মঈনুল আলম, সাংস্কৃতিক সংগঠক নজরুল ইসলাম মোস্তাফিজ, শওকত আলী সেলিম প্রমুখ। আরো উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিকর্মী কবি সজল দাশ, দিলীপ সেন গুপ্ত, সুজিত চৌধুরী মিন্টু, রিংকু ভট্টাচার্য্য, রুমকী সেন গুপ্তা, অপরাজিতা ভট্টাচার্য্য। অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগীত পরিবেশন করেন বেতার ও টেলিভিশন শিল্পী কল্পতরু ভট্টাচার্য্য, রূপা বিশ্বাস, প্রিয়াংকা দাশ অর্কি, ইলমা বিনতে বখতিয়ার, প্রিয়া চক্রবর্ত্তী। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন ঘুঙর নৃত্যকলা একাডেমী পরিচালনায় নৃত্যশিল্পী স্বপন দাশ। আলোচনা সভা শেষে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শিশু কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা বিজয়ী প্রায় শতাধিক বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেষ্ট, সনদপত্র তুলে প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী সহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
