জেলা প্রশাসকের ইজারা জমিতে পাউবোর খাল খননের পায়তারা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক,কক্সবাজার : কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে পোকখালী গোমাতলী এলাকায় বেদখলি জমি উদ্ধার না করেই ব্যক্তিগত ও লীজ নেওয়া জমির উপর দিয়ে খাল খননের পায়তারার ঘোর অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেও আশংকাকেও উড়িয়ে দিচ্ছে না এলাকাবাসি।

কক্সবাজার সদরের পোকখালী গোমাতলী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড এলএ মামলা নং-৭,৮/৮৯-৯০ইং খাল খননের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে। তৎসময়ে খালও খনন করা হয়। কিন্তু পরবর্তিতে অধিগ্রহনকৃত বিপুল পরিমাণ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন ভুসম্পত্তি ও খননকৃত খাল বেদখলে হয়ে যায়।

এলাকাবাসি জানিয়েছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত ১৮৩৯ দাগের ২.৩১ একর জমির উপর স্থানীয় সিরাজুল ইসলাম গং অবৈধভাবে একটি দীঘি খননের কারণে স্বাভাবিক পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। যার ফলশ্রুতিতে রোয়ানু সহ বিভিন্ন ঘুর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে গোমাতলি এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘপ্রায় ২ বছর এলাকায় চলে জোয়ার ভাটা। চরম দূর্ভোগে পড়ে যান হাজার হাজার অধিবাসি।

এলাকাবাসি আরো জানান, দীঘির খননের কারণে ৬ নং স্লুইচ গেইট হতে ৭ নং স্লুইচ গেইটের পানি চলাচল বিচ্ছিন্ন থাকে। এতে করে রোয়ানুর সময় জোয়ারের পানি প্রবেশ করলেও পানি বেরিয়ে যাওয়ার পথ রোদ্ধ হওয়ায় ব্যাপক ভাঙ্গন সহ ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

লবণ চাষীরা জানান, শুধু অবৈধ দীঘির কারণেই শুষ্ক মৌসুমে লবণ পরিবহণে প্রান্তিক চাষিদের পরিবহণ খরচ বেড়েছে। যেখানে চাষীরা লবণের নার্য্যমুল্য পাচেছ না সেখানে অতিরিক্ত পরিবহণ খরচ পড়ায় বিপাকে পড়েছে চাষীরা।

ইজারা গ্রহীতারা জানান, জেলা প্রশাসক থেকে লীজ নেওয়া রাইয়ান উদ্দিনগং এর চিংড়ি ঘের জমি উপর দিয়ে খাল খননের পায়তারা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি অবৈধ দখলদার সিরাজুল ইসলাম ও তার ছেলে মুসলেম উদ্দিন।
এদিকে, গত ১৭ এপ্রিল সহকারী কমিশনার (ভুমি) সদরের নির্দেশে ঈদগাঁও ভুমি অফিসের ভুমি কর্মকর্তা জেসমিন আকতার সরেজমিন পরির্দশন করেন। পরির্দনের আলোকে তার কার্যালয়ের স্মারক নং-১৭০, তাং-১৯.০৪.২০১৮ইং মুলে একটি তদন্ত প্রতিবেদনও দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘকাল ধরে পরিত্যক্ত যে স্লুইচ গেইটটি খুলে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, তার পশ্চিমের অংশের ভুমি গোমাতলি মৌজার মহেশখালী চ্যানেলের চরভরাট জমি। যাহার পর্চা দাগ ২০০৯। যাহা রাইয়ান উদ্দিন গংএর ইজারাভুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ওই জমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত নয় এবং স্লুইচ গেইট খুলে দিলে ইজারাদারদের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আশংকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

গোমাতলি এলাকাবাসির দাবী, ১৯৮৯-৯০ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত ভুমি অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার করে সেখানে খাল খননসহ সুষ্টু পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হোক।

ইজারা গ্রহীতার প্রতিনিধি শহর আলী বলেন, নার্য্য রাজস্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক থেকে ভুমি ইজারা নেয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে ইজারাকৃত জমির উপর অবৈধ ভাবে খালখননের পায়তারা করা হচ্ছে। খাল খননের ব্যাপারে কোন ধরনের নোটিশও এ পর্যন্ত দেয়া হয়নি ইজারাদারদের।

তবে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের প্রয়োজন হলে ইজারা গ্রহীতারা জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি অবৈধ দখলদারগংই পেশী শক্তির বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নাম ভাঙ্গিয়ে জোর করে খাল খননের চেষ্টা নিয়ে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের আশংকা করছে এলাকাবাসি।

এব্যাপারে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সবিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা তিনি বলেন, জনগণের প্রয়োজনে খাল খনন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে। যেহেতু জমি ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত। জমির প্রয়োজন হওয়ায় জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনও করা হয়েছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.