প্লাস্টিকের ব্যবহার রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগের দাবি

0

সিটি নিউজ,চট্টগ্রাম : পরিবেশ দূষণ রোধে প্লাস্টিকের বেআইনী উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং ব্যবহার রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ এক বিবৃতিতে পরিবেশ দূষণ রোধে ব্যবহৃত তহবিলসহ জলবায়ু অর্থায়নে পরিচালিত সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতার চর্চা ও জন-অংশগ্রহণ বৃদ্ধির দাবিসহ আট দফা দাবি পেশ করেছে সংস্থাটি।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০১৮ এর মূল প্রতিপাদ্য ‘আসুন প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করি, প্লাস্টিক পুনঃব্যবহার করি, না পারলে বর্জন করি’। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে সনাক-টিআইবি চট্টগ্রাম মহানগর প্রচারণামূলক কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী মানববন্ধন ও র‌্যালী, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

এ সব কর্মসূচির অংশ হিসাবে আজ মঙ্গলবার ৫ জুন সকাল সাড়ে ১০ ঘটিকায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ এর সামনে মানববন্ধন ও র‌্যালীর আয়োজন করে। র‌্যালী পরবর্তী সনাক-টিআইবি তাদের অবস্থান পত্র পাঠ করেন ইয়েস দলনেতা প্রীতি দাশ। মানববন্ধনে সর্ংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, সনাক সদস্য ও নারী নেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু, টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী ব্যাস্থাপক (অর্থ ও প্রশাসন) সাহেদা আক্তার, ইয়েস সহ-দলনেতা, কেএম জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

অংশগ্রহণকারী লোকজন সহ পথচারীদের মধ্যে সনাক-টিআইবি তাদের অবস্থানপত্র বিলি করেন। বিলিকৃত অবস্থান পত্রের মাধ্যমে নিম্নোক্ত সুনির্দিষ্ট আটটি দাবি উত্থাপন করছে:

১. প্লাস্টিকের বেআইনী উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং ব্যবহার রোধে দূষণ কর প্রয়োগ, বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ, প্রয়োজনে বিদ্যমান আইন সংস্কার করে শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি এবং তার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অনুকরণযোগ্য ইতিবাচক অবদানের জন্য পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে;
২. প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক সব অংশীজনের সাথে সমন্বিতভাবে কম্যুনিটিভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করতে হবে;
৩. প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করে উৎপাদিত প্লাস্টিক পুনঃব্যাবহার নিশ্চিতে সরকার ও বেসরকারি খাত কর্তৃক বিভিন্ন প্রণোদনামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে;
৪. সম্ভাব্য ক্ষেত্রসমূহে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ/সীমিত করতে হবে এবং প্লাস্টিকের পরিবেশবান্ধব বিকল্প উদ্ভাবনের প্রচেষ্টা করতে হবে;
৫. সমুদ্র সম্পদ, বনভূমি, নদ-নদী, খাল-বিল রক্ষা এবং অবৈধ দখল হতে তা উদ্ধার ও সুরক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে;
৬. টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ১৪ এর অর্জন নিশ্চিতে সমুদ্র দূষণ রোধের পাশাপাশি সমুদ্র সম্পদের সংরক্ষণ নিশ্চিতে সমুদ্র অধিদপ্তর, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত তদারকি এবং দূষণ আইনের ব্যবহারে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহায়তা নিতে হবে;
৭. ‘প্যারিস চুক্তি’ বাস্তবায়নে সকল শিল্পোন্নত দেশের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে, বিশেষ করে স্বচ্ছতার সাথে বাংলাদেশসহ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের জন্য প্রতিশ্রুত তহবিল দ্রুত ও সহজতর পদ্ধতিতে ছাড় করতে হবে;
৮. দূষণ রোধে ব্যবহৃত তহবিলসহ সার্বিকভাবে জলবায়ু অর্থায়নে কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতে গৃহীত সকল কার্যক্রমে জন-অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে হবে এবং আর্থিক লেনদেন ও কর্মসম্পাদন প্রতিবেদন স্ব-প্রণোদিতভাবে প্রকাশ করতে হবে।

পাশাপাশি, ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ এরই মধ্যে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক কারণগুলোর পাশাপাশি, দেশের ভিতরে অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকা- বাংলাদেশের ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০০২ সালে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন করা হলেও, কার্যকর প্রয়োগের অভাবে এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই যত্রতত্র নির্বিচারে পলিথিন ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রতি বছর প্রায় ৩ লক্ষ টন প্লাস্টিক বর্জ্য নদী-নালা, খাল-বিল ও উন্মুক্ত জায়গায় ফেলা হচ্ছে। এধরণের দূষণ বন্ধ করতে হলে প্লাস্টিকের বেআইনী উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। আমরা মনে করি, আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে প্লাস্টিকের অবৈধ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, দূষণ কর ব্যবস্থাও চালু করা যেতে পারে।

ড. জামান আরো বলেন, “পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নসহ প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্য প্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা। এছাড়া ‘প্যারিস চুক্তি’ অনুযায়ী বাংলাদেশও পরিবেশ, বনভূমি এবং জীব-বৈচিত্র্য রক্ষাসহ সব ধরনের অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রম নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

‘প্যারিস চুক্তি’ অনুযায়ী বাংলাদেশসহ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের জন্য প্রতিশ্রুত তহবিল, স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত ও সহজতর পদ্ধতিতে ছাড় করনোর জন্য ড. জামান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, পরিবেশ দূষণ রোধে ব্যবহৃত তহবিলসহ সার্বিকভাবে জলবায়ু অর্থায়নে পরিচালিত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করছে টিআইবি। ড: জামান বলেন, এসব কার্যক্রমে জন-অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে এবং আর্থিক লেনদেন ও কর্মসম্পাদন প্রতিবেদন স্ব-প্রণোদিতভাবে প্রকাশ করতে হবে।

উল্লেখ্য, সনাক – টিআইবি জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন নিশ্চিত করা সহ টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে পরিবেশ দূষণ রোধে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে দেশব্যাপী নাগরিক অংশগ্রহণ সৃষ্টির লক্ষ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন অংশীজনকে সাথে নিয়ে কাজ করে আসছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.