গোলাম শরীফ টিটুঃ মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মুখপত্র দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ সাপ্তাহিক আজকের সুর্যোদয়ের সাবেক সংবাদকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নর (ডিইউজে) এর। এ দুটি সংগঠন সাংবাদিকদের রুটি-রুজি ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সোচ্চার ভুমিকা পালন করে।
এবার দেশের সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) নির্বাচনে ১ হাজার ৯৬০ ভোট পেয়ে মহাসচিব পদে বিজয়ী হয়েছেন শাবান মাহমুদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাকারিয়া কাজল পেয়েছেন ৭০০ ভোট।
আজকের সুর্যোদয়ের এক সময়ের তুখোড় কলম সৈনিক শাবান মাহমুদ এর আগে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সভাপতি ছিলেন। বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শাবান মাহমুদ বর্তমানে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিনিধি ছাড়াও নিয়মিত কলাম লেখেন আজকের সুর্যোদয়ে। অপরদিকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সাধারন সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরীর উত্থানও আজকের সুর্যোদয় চট্টগ্রাম অফিস থেকে সহকারী সম্পাদক জুবায়ের সিদ্দিকীর হাত ধরে।
চট্টগ্রাম থেকে বিএফইউজে’র দুই শীর্ষপদ সহ-সভাপতি ও যুগ্ন-মহাসচিব পদে নির্বাচিত হয়ে এবার চমক দেখিয়েছেন আজকের সুর্যোদয়েরই সাবেক দুই চৌকষ সংবাদকর্মী। সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন রিয়াজ হায়দার চৌধুরী। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) এর সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের পদসহ বিভিন্ন পদে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সর্বশেষ ছিলেন সিইউজের সভাপতি। চট্টগ্রামের একজন সুপরিচিত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সংগঠক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ও টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ ২৪ এর বিশেষ প্রতিনিধি। চট্টগ্রাম পেশাজীবি সমন্বয় পরিষদের সাধারন সম্পাদক ছাড়াও অসংখ্য সংগঠনের সঙ্গে জড়িত তিনি।
যুগ্ন মহাসচিব পদে নির্বাচিত মহসীন কাজী চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। ছিলেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং যুগ্ন-সম্পাদক। এর পর চট্টগ্রাম সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটি এর গত নির্বাচনে পরিচালক পদে জয়লাভ করে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সমাজ সেবক ও সংগঠক হিসেবে রয়েছে মহসীন কাজীর পরিচিতি। তিনি দৈনিক সত্যবাণীর নির্বাহী সম্পাদক।
হাতে গড়া সংবাদকর্মীরা দেশের সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠনের নেতৃত্বে যাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আবেগাপ্লুত হন আজকের সুর্যোদয়ের সহকারী সম্পাদক ও চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান জুবায়ের সিদ্দিকী। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন,’ ৯০’এর দশকে আজকের সুর্যোদয়ের শুরুর দিকে রাজনৈতিক অঙ্গণের সংবাদগুলো পাঠক মহলে খুবই জনপ্রিয় হয়। চট্টগ্রাম অঞ্চলে দ্রুত বেড়ে যায় পত্রিকাটির প্রচার। এক পর্যায়ে আমার সহকর্মী হিসেবে আসেন রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, মহসীন কাজী ও সোহেল হায়দার চৌধুরী।
ওই সময় এসব সহকর্মীরা কাজ করেছে অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে। ছিলনা ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত সুবিধা ও মোবাইল ফোন। অনেক কষ্ট করে সংবাদের গভীরে গিয়ে খুঁজে আনতে হতো নেপথ্যের নির্জাস। একটি সংবাদের এ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করতে তাদের মধ্যে ছিল দারুন প্রতিযোগিতা।
আজকের সুর্যোদয়ের চট্টগ্রাম অঞ্চলে জনপ্রিয়তার পেছনে তাঁদের চেষ্টা, শ্রম ও আন্তরিকতাকে ভুলতে পারব না’। তিনি বলেন,’ আজকের সুর্যোদয় শুধু একটি পত্রিকা নয়। এটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের প্লাটফরম। এখান থেকে শেখা যায় কিভাবে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবিচল থাকতে হয়। শেখায় দেশপ্রেম ও উৎসাহিত করে নেতৃত্বের।
আমার প্রত্রিকার প্রধান সম্পাদক গেদুচাচা খ্যাত কলামিষ্ট খোন্দকার মোজাম্মেল হক একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। যার হৃদয়জুড়ে আছে দেশপ্রেম। তাঁর আদর্শ ও উদ্দেশ্য আমাদের মধ্যে বহমান। আমি আমার সহকর্মীদের বিএফইউজে’র শীর্ষপদে জয়লাভ করায় গৌরবাম্বিত। আমার প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতা ও নিয়মিত যোগাযোগ রাখাটাও আমাকে বিস্মিত করে। কামনা করি একদিন তারা আরও উচ্চপদে আসিন হবেন’।
