গণধর্ষিতা প্রতিবন্ধী যুবতীর চিকিৎসায় পটিয়ার ওসি!

0

সুজিত দত্ত, পটিয়া প্রতিনিধিঃ গণধর্ষণের শিকার মানসিক প্রতিবন্ধী গর্ভবতী যুবতীর চিকিৎসার জন্য মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে এগিয়ে এলেন পটিয়া থানার নবাগত ওসি বোরহান উদ্দিন। অন্যদিকে এ অসহায় এ যুবতীর চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টায়।

জানা যায়, ২৫ বছর বয়সী এক যুবতী গত ১০-১২দিন ধরে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় ঘুরাফেরা করে আসছিল। মানসিক প্রতিবন্ধী এ যুবতী নিজের নাম সুমী, বাড়ি কুমিল্লা ছাড়া আর কিছুই বলতে পারেনি। যুবতীটি গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ফুটপাতের উপর প্রসব বেদনায় কাতরানোর সময় খাজা ফার্মেসীর মালিক গাজী আনোয়ার হোসেনের নজরে আসে।

তিনি পটিয়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড এলাকার অধিবাসী ভ্যানগাড়ি চালক জসিমকে নিয়ে যুবতীকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তির জন্য অনুরোধ করেন। পরে তার বাসা থেকে তার স্ত্রীর কাছ থেকে জামা কাপড় এনে পরিধানের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ভর্তি না করিয়ে আবাসিক অফিসারের কাছে তাদেরকে যোগাযোগ করতে বললে তারা ফোনে তাকে না পেয়ে বিষয়টি পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে অবহিত করেন।

তারা পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিনকে ঘটনাটি খুলে বললে ওসি নিজে হাসপাতালে আসেন এবং মেয়েটিকে গাইনী বিভাগে ভর্তির অনুরোধ করেন। এ সময় ওসিকে আবাসিক অফিসারের সাথে যোগাযোগ করতে বললে তিনি জানান আমি ফোনে তাকে পাইনি এবং হাসপাতালেও তিনি দায়িত্বরত ছিলেন না। ফলে আমি রাত ১১টায় একটি নোহা মাইক্রোবাস ভাড়া করে মেয়েটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করি।

খাজা ফার্মেসীর মালিক গাজী আনোয়ার হোসেন জানান, মেয়েটি মৃত্যু ও প্রসব যন্ত্রনায় চটপট করছিল। পটিয়া থানার ওসির মানবিকতার কারণে সে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। চমেক হাসপাতালে ভর্তির পর কর্তৃপক্ষ তাকে গাইনী বিভাগের ওএসসিসিতে স্থানান্তর করেছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসা চলছে সে সুস্থ রয়েছে। ৬/৭ দিনের মধ্যে তার বাচ্চা প্রসব হতে পারে।

পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানান, মানুষ মানুষের জন্য। অভিভাবকহীন মানসিক প্রতিবন্ধী উক্ত যুবতীর মৃত্যু যন্ত্রনার খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে দৌড়ে যায় এবং তাকে হাসপাতালে গাইনী বিভাগে ভর্তির জন্য মেডিকেল প্রধানকে বললেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি আরএমও সাহেবের সাথে যোগাযোগ করতে বললেও তাকে হাসপাতালে পাইনি এবং মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। এমনকি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যে এম্বুলেন্স রয়েছে তার চালককেও সে সময় খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমার মনে হয় অবলা এমেয়েকে অভিভাবকহীন পেয়ে খারাপ চরিত্রের লোকেরা গর্ণধর্ষণ চালিয়ে অন্তঃস্বতা করেছে। বর্তমানে মেয়েটি সুস্থ রয়েছে। বাচ্চা হলে তাকে সমাজ সেবা বিভাগের মাধ্যমে শিশু আশ্রম কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে।

এ ব্যাপারে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ আবু ইউছুফ মোহাম্মদ ওয়াহিদ উল্লাহ জানান, এসব রোগী সাধারণত আবাসিক মেডিকেল অফিসার দেখাশোনা করেন। তাই আমি তার সাথে দেখা করতে বলেছি।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.