চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ কমিটি বাতিল ও নতুন কমিটি গঠনের দাবীতে স্মারকলিপি
সিটি নিউজ ডেস্ক : ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার শিক্ষাখাতের উন্নয়ন ও ছাত্রদের অধিকার আদায়ে অপরিসীম ভূমিকা পালন করে চলছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ৫২’র ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষা আন্দোলন, ছাত্রদের অধিকার আদায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষন করিতেছি যে, এই গৌরবোজ্জ্বল ছাত্র সংগঠন চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি শাখার সদস্য হওয়ার আশা নিয়েই আমরা বর্তমান সরকারের সাথে সমস্বয় করে ছাত্রদের অধিকার নিয়েই কাজ করছি। এমতাবস্থায় শিক্ষা ক্ষেত্রে ছাত্রত্ব প্রায় শেষ পর্যায়ে বিধায় এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বয়সের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ায় এই গৌরবোজ্জ্বল ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদস্য হওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
দীর্ঘ ১২ বছর পর গত ৩০ শে অক্টোবর ২০১৩ সালে নগর শাখার ২৪ জনের সম্মেলন বিহীন আংশিক কমিটি ঘোষণা ও পরবর্তীতে কেন্দ্র থেকে গঠনতন্ত্র বিরোধী পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। উক্ত কমিটি সম্মেলন বিহীন হওয়ায় নগরীর থানা ও ওয়ার্ড এর তৃণমূল নেতৃবৃন্দ তাদের কাউন্সিলর ভোটাধিকার মাধ্যমে নেতা নির্বাচনে বঞ্চিত হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ৮ মাস পদবঞ্চিতদের আন্দোলন সরগরম ছিল নগরীর রাজপথ। পরবর্তীতে পদবঞ্চিতদের আন্দোলন পরিনত হয় ক্ষোভে ও নগরীর সার্কিট হাউজে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। উক্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত হয় কলেজ ও থানা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

সমালোচনার মুখে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, সাংগঠনিক সফরে চট্টগ্রামে আসতে বাধ্য হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে পদবঞ্চিতদের আন্দোলন স্থগিত করা ও ৬ মাস মেয়াদী পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এমতাবস্থায় বর্তমান মেয়াদ উত্তীর্ণ নগর কমিটির নেতৃবৃন্দের ছাত্রত্ব না থাকায় এবং অনেকে গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকায় সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
৩০ শে অক্টোবর ২০১৩ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কর্তৃক ঘোষিত সম্মেলন বিহীন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সহ ২৪ জনের আংশিক নাম ঘোষনা করা হয়। উক্ত কমিটিতে প্রায় অনেকেই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বয়সসীমা ২৯ বছরের উপরে ছিল।
অনেকে সরকারী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত অবস্থায় ছাত্রলীগের সংগঠনের পদ পায়। ঐ অবস্থায় তাদের ছাত্রত্ব ছিলো না অনেকের। সংগঠনের অনেকেই এখন বিবাহিত হওয়ায় সাংগঠনিক কর্মকান্ডে এখন অনেকেই উপস্থিত হয় না যার কারণে সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক কর্মসূচি পালনে ব্যর্থ হয়।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর ৬ মাস চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের মেয়াদ উর্ত্তীণ ও বিতর্কিত কমিটি স্থায়ী হওয়ায় বিভিন্ন কলেজ, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতৃত্ব শূণ্যতায় ছাত্রলীগ। নগরের নতুন কমিটি নিয়েও ছাত্রলীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে গত ২ বছর ধরে হাহাকার চলছে।
মহানগর কমিটির সভাপতি, বহিস্কৃত সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের ব্যর্থ নেতৃত্বের কারণে নগরীতে ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ফলশ্রুতিতে জরুরী ভিত্তিতে বাংলাদেশের এই ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঐতিহ্যকে ধারণ করে ছাত্রলীগকে গতিশীল করার লক্ষ্যে এই মেয়াদ উত্তীর্ণ, অছাত্র, বিবাহিত, গঠনতন্ত্র বিরোধী চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বাতিল ও নতুন কমিটি গঠনের দাবীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
উক্ত স্মারক লিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন ইমরান আলী মাসুদ, মনির চৌধুরী, হুমায়ুন কবির আজাদ, রায়হানুল কবির শামিম, নাছির উদ্দিন কুতুবী, রাশেদ চৌধুরী, অরবিন সাকিব ইবান, ওসমান গণি, ফাহাদ আনিস, নেওয়াজ খান, মোস্তফা কামাল, জালাল আহমেদ রানা, নুরুল হক মনির প্রমুখ।
