সিটিনিউজবিডি : চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার জালালাবাদ দুর্গম মাঝিরঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে নিহত মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুর একটার দিকে ধসে পড়া মাটির নিচ থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
সকাল পৌনে সাতটার দিকে পাহাড়ের পাদদেশে রান্নাঘরের উপর পাহাড় ধসে পড়ে নিহত হন মা পারভিন আক্তার(৩০) ও তার শিশু কন্যা উর্মি আকতার সাথী(৫)। পারভিন আকতারের স্বামী শহরতলীতে চলাচলরত বাস চালকের সহকারি। তাদের দুই মেয়ে দুই ছেলে। পারভিন আকতার মানুষের বাস-বাড়িতে বুয়া হিসেবে কাজ করতেন।
গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের। জীবিকার তাগিদে ছয় বছর আগে চট্টগ্রাম আসেন তারা। একবছর আগে এক আত্মীয় নগরীর জালালাবাদে পাহাড়ের পাদদেশে বিনা ভাড়ায় থাকতে দেন।
সোমবার সকালে পাহাড়ের পাদদেশে দুই কক্ষের টিনের ঘরে ছিলেন আবুল খায়ের ও তার দুই মেয়ে দুই ছেলে। বাসা বাড়িতে কাজে যাওয়ার আগে বাসার রান্নার কাজ সেরে নিতে বাসার সামনে একছালা রান্নাঘরে যান পারভিন আকতার। সঙ্গে যান পাঁচ বছর বয়সী শিশু কন্যা উর্মি আকতার সাথী। এসময় পাশের খাড়া পাহাড় ধসে রান্না ঘরের উপর পড়লে মাটির নিচে চাপা পড়ে মা-মেয়ের করুণ মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করে।
পারভিন আকতারের স্বামী আবুল খায়ের বলেন, আমি শোয়ার ঘরে ছিলাম। হঠাৎ মাটি পড়ার শব্দে দৌঁড়ে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি আমার সব শেষ হয়ে গেছে। চোখের সামনে মা-মেয়ে মারা গেল আমি কিছুই করতে পারলাম না।
বায়েজিদ বোস্তামি থানার উপ পরিদর্শক মানষ বড়ুয়া বলেন, ধসে পড়া মাটির নিচ থেকে লাশ উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
