চসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে আ.লীগের নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে পুলিশঃ বিএনপি
সিটি নিউজঃ চট্টগ্রাম নগর বিএনপি অভিযোগ করে বলেছেন, আগামী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশ (চসিক) নির্বাচনে বিএনপি যাতে অংশ নিতে না পারে সে জন্য এখন থেকে নানা ষড়যন্ত্র, হামলা মামলার মাধ্যমে নেতাকর্মীদের কারাগারে আটকে রেখে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালাচ্ছে পুলিশ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। তারা যেনতেন ভাবে ২০১৮ সালের মত নীল নকশার নির্বাচন বাস্তবাযনের কাজ শুরু করেছে।
আজ শনিবার (১ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে নগরীর নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযাগ করেন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।
সম্প্রতি নগর ছাত্রদলের মতবিনিময় চলাকালে কোন কারণ ছাড়াই পুলিশী হামলা, ককটেল হামলা ও গুলি চালিয়ে নেতাকর্মীদের আহত করে কেন্দ্রিয় ছাত্রদল নেতাসহ কয়েজনকে আটক ও অসংখ্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনার প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন বিএনপি।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. শাহাদাত বলেন, আগামী সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের নীল নকশা বাস্তবায়নে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে সিএমপির কতিপয় এক বির্তর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা। যিনি ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে যেভাবে গায়েবী মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছিল।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে তিনি আরো বলেন, গত ২৮ জানুয়ায়ী মঙ্গলবার চট্টগ্রামে সফররত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নাছিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের তৃনমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল থেকে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচী চলাকালে কোতোয়ালী থানা ও ডিবি পুলিশ বিনা কারণে কার্যালয়ে ঢুকে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে পুলিশ নেতা কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং গুলি চালায়। পুলিশ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। যা শিষ্টাচার বহির্ভূত। পুলিশের গুলিতে এ সময় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাইনুদ্দীন শহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ. এম. রাশেদ খান, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক কে. এম আব্বাস ও গাজী শওকত সহ ১০/ ১২ জন নেতা কর্মীসহ আহত হয়। তাদেরকে একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদ আলম সর্দ্দার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দীন নিলয়, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম খলিল, মোঃ বেলালকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিম চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইউনিটে ছাত্রদল নেতাদের সাথে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু পুলিশ সম্পূর্ণ বিনা কারণে ছাত্রদল নেতাদের উপর হামলা চালিয়ে আহত করে আবার তাদের নামে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। ঐ সময়ে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন গণ মাধ্যমে স্বীকার করেন পুলিশ চার রাউন্ড গুলি চালিয়েছে। অথচ পরের দিন ছাত্রদল নেতা কর্মীরা পুলিশকে ককটেল হামলা করেছে অভিযোগ এনে ৫ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ঘটনার সময় উপস্থিত ছিল না এমন নেতাদের নামও মামলায় আসামী হিসেবে দেখানো হয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ চূড়ান্ত মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ পদোন্নতির আশায় ছাত্রদলের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনে এবং গণমাধ্যমে তা প্রচার করে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
সংবাদ সম্মেলনে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান, বিএনপির সহ সভাপতি আলহাজ্ব এম এ আজিজ উপস্থিত ছিলেন।
