জনশক্তিকে দক্ষ জনসম্পদে পরিনত করতে হবেঃ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

0

সিটি নিউজঃ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। জাতির পিতা যখন স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন তখন মানুষ ছিল সাড়ে সাত কোটি। এখন ষোলো কোটি। এইযে বিশাল জনসংখ্যা, এদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জন সম্পদে পরিনত করতে হবে। তবেই স্বার্থক হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন। উন্নয়ন হবে মানবসম্পদের।

আজ শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম সাকিট হাউজে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা ও জনসচেতনতা শীর্ষক প্রচার, প্রেস ব্রিফিং ও সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন।

সেমিনারে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান এর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড.আহম্মদ মনীরুছ সালেহীন, যুগ্মসচিব মোজাফফর আহমদ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি আমেনা বেগম, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম পণ্য পরিবহন ও মালিক ফেডারেশন এর সভাপতি মো. আবদুল মান্নান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর বাহাদুর বলেন, অদক্ষতার জন্য বাংলাদেশের শ্রমিকরা বিদেশে উপযুক্ত মজুরি পান না। যুুগের সাথে তাল মিলিয়ে কারিগরি জ্ঞান অর্জন করলে বিদেশে উপযুক্ত মজুরি পাওয়া যায়। তবে বিদেশে শ্রমিক পাঠালে আগেই সে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা জানা দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন। টেকনিক্যাল টিচিং সেন্টার (টিটিসি) প্রশিক্ষকগণ প্রশিক্ষণ সঠিকভাবে দিচ্ছেন কিনা তদন্তকরে দেখা প্রয়োজন। তারা নিজেরাও প্রশিক্ষিত কিনা তাও ভাবার বিষয়। ভাষাগত দক্ষতা বেশি দরকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নারী কর্মী বিদেশে গেলে তারা বেশি হয়রানির শিকার হয়। তারা বিদেশি গৃহকাজ করতে পারে না। সে জন্য গৃহকাজেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, সরকার প্রবাসী প্রবাসীদের উপযুক্ত ও দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দেশের প্রতি উপজেলায় (টিটিসি) প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, ৬৪ জেলায় ৭০ টি (টিটিসি) নির্মাণ করা হয়েছে। ৪০ টি (টিটিসির) নির্মাণ কাজ চলমান আছে। আরো ৬০ টি প্রকল্পের ডিপিপিতে প্রস্তুত হচ্ছে। প্রবাসী শ্রমিকদের আয় দেশের জন্য একটা বড় আর্শিবাদ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দালালচক্রের হাত থেকে প্রবাসী শ্রমিকদের রক্ষা করতে হবে।

গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে প্রবাসী শ্রমিকরা র‌্যামিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৬.৫০ বিলিয়ন ডলার। সরকারকে প্রবাসীরাই সাহস জুগিয়েছেন পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু ইকনোমিক জোন, পায়রাবন্দর, কর্ণফুলী টানেলের মত বড় বড় উন্নয়ন কাজ করতে। মন্ত্রী আরো বলেন, এ বছর ৫০ হাজার কর্মী বিদেশে পাঠানোর টার্গেট নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জাপানিজ, কোরিয়ান, আরবী, ইংরেজি, ক্যান্টনিজ ভাষায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নারী কর্মীদের সুরক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সংস্কার করা হয়েছে এবং ৪০ টি টিটিসিতে হাউজ কিপিং কোর্সে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

 

 

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.