চসিক নির্বাচনে ৩৬ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী মো. ইলিয়াছ
জুবায়ের সিদ্দিকীঃ দেশে মুজিব শতবর্ষের এই ক্ষণগননার এই সময়ে আমরা বঙ্গবন্ধুকে জানতে চেষ্টা করবো। অনুধাবন করবো বঙ্গবন্ধ’র আরাধ্য ইতিহাস। নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর দর্শন চিন্তা নেতৃত্বগুনের কথা তুলে ধরতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে।
তাহলেই জন্মশত বর্ষের সৌন্দর্যটুকু ফুলেলায়িত হয়ে উঠবে। স্বাধীনতার মহান স্থপতি আজ আমাদের মাঝে নেই। একজন খাঁটি বাঙালি হিসেবে তার স্বপ্নটুকু বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির চিরকল্যাণ সাধিত হোক- এই প্রত্যাশাই করেন চট্টগ্রাম বন্দর থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ।
নগরীর ৩৬ নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এবার কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াছ রাজনীতির পাশাপাশি সমাজসেবায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। সিটি নিউজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান খুবই ভাল। আমাদের সভাপতি নূরুল আলম সাহেবসহ গত ১৮ সনে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচী পালন যথাযথভাবে পালন করছি। আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে দলীয় অফিস করেছি। যা আগে ছিল না। ছাত্রলীগ অংগসংঠনের সহযোগীতা নিয়ে আমরা দলীয় কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছি।
মোহাম্মদ ইলিয়াছ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। দীর্ঘদিন কাজ করছি রাজনীতির মানচিত্রে জনগণের জন্য। স্বাভাবিকভাবে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে মাঠে কাজ করছি। সামনে আরো ব্যাপকভাবে কাজ করতে আগ্রহী। মানুষের সুখে দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করি। মানুষের কল্যাণে নিজেকে জড়িত করাই আমার রাজনীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। দলীীয় সমর্থনে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হবে। আমিও স্বাভাবিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাশী। মনোনয়ন দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেব তবে দলীয়ভাবে আমাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য আমি দলীয় হাইকমান্ডের কাছে অনুরোধ জানাব। দলীয় সিদ্ধান্ত আগেও মেনে এসিেছ। আগামীতেও মেনে নেব।
নগরীর ৩৬ নং ওয়ার্ডের সব চেয়ে বড় সমস্যা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সংগঠক মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, অত্র ওয়ার্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। খাল, নালা, নর্দমা ভরাট ও অনেকে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। এই দখল উচ্ছেদে সরকারী সিদ্ধান্ত থাকলেও অদৃশ্যকারণে উচ্ছেদ হচ্ছেনা। জলাবদ্ধতা নিরসনে যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার ছিল তা এখনও প্রতিফতি হয়নি। ওয়ার্ডে মাদকের সমস্যা খুবই প্রকট। মাদকের জন্য সমাজের তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে।
গোসাইলডাঙ্গা এলাকায় রাস্তাঘাট আজ বেদখল হয়েছে। প্রভাবশালীরা রাস্তার উপর দোকানপাট নির্মাণ করে আছে। জনগণের চলাচলের পথরোধ করে বহাল তবিয়তে আছে। এই ৩৬ নং গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডে পড়েছে বন্দর ভবর, কাষ্টমস হাউস, বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। বন্দরের পাশে একটি ওয়ার্ড যেভাবে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর হওয়ার কথা সেভাবে গড়ে উঠেনি। এতে করে বন্দর, বন্দর ভবন, কাষ্টমস হাউসের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। একটি সুন্দর পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড গড়ে তুলতে পারে নান্দনিক পরিবেশ। বিদেশীরা দেখলে দেশের সুনাম বৃদ্ধি পাবে। এই ওয়ার্ডে ৪০ বছর আগের স্কুল, মাদ্রাসা রয়েছে। নতুন করে কোন কলেজ, মাদ্রাসা স্কুল হয়নি।
তিনি বলেন, এই ওয়ার্ড একটি অবহেলিত ওয়ার্ড। দিন দিন মানুষের বসবাস বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্দরের অধিকাংশ শ্রমিক/কর্মচারীর বসবাস এই ওয়ার্ডে। বসবাসরত মানুষ নাগরিক সুবিধা পর্যাপ্ত পরিমান পাচ্ছেনা। এই সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। বর্তমান সরকার তিনবারের ক্ষমতায় থেকে প্রচুর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। উন্নয়নে সরকারের বরাদ্ধ প্রচুর।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য নিজে তদারকি ও বিভিন্ন প্রকল্প উপহার দিয়েছেন। সে হিসেবে মানুষের মাঝে এই উন্নয়ন কর্মকান্ড যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। না হওয়ার কারণ হচ্ছে, প্রতিনিধি বা ওয়ার্ড কান্সিলররা যেভাবে নির্বাচিত হয়ে আসেন ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধি যারা আছেন তারা নিজেদের নাম নিয়ে ব্যস্ত।
জননেত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে ছাত্র/ছাত্রীদের বিনামূল্যে বই, বিধবা ভাতা, বয়স্কভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতাসহ অনেক প্রকল্প চলমান রেখেছেন। মানুষ এর সুফল ভোগ করছে। মানুষের উপকারের জন্য এই প্রকল্পগুলো দিয়েছেন। ওয়ার্ড কাউন্সিলররা এসব বন্টন করতে গিয়ে যাদেরকে দিচ্ছে এরা কারা? দেখতে আমাদের কষ্ট লাগে, যখন দেখি স্বাধীনতা বিরোধীরা এসব সুবিধাগুলো পাচ্ছে। বঞ্চিত হচ্ছে তৃণমূলের পোড় খাওয়া কর্মী ও প্রান্তিক জনগণ। এসব সাহায্য সহায়তা নেত্রী দিচ্ছেন রাষ্ট্রীয়ভাবে কিন্তু সেখানে নেত্রীর কথা নেই। আওয়ামী লীগের কথা নেই। তারা নিজেদের নাম প্রচার করছেন। এসব মানসিকতা পরিহার করতে হবে।
