সিটি নিউজঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত অমর একুশে বইমেলা চট্টগ্রাম’র ১০ম দিনে “কবিতা কি পাল্টে যাচ্ছে” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব এবং মননশীল সাহিত্য নিয়ে তিন পর্বের সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার বিকেল ৫টায় জিমনেশিয়ামস্থ অমর একুশে বইমেলা মঞ্চে ১ম পর্বের সঞ্চালনা করেন কবি জিললুর রহমান। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপচার্য তপধীর ভট্টাচার্য, কবি মোস্তাক আহমদ দীন, কবি ও সাংবাদিক ওমর কায়সার, দ্বিতীয় পর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব বিষয়ে আলোচনা করেন তরুণ লেখক আরিফ আর হোসাইন। তৃতীয় পর্বে মননশীল সাহিত্য বিষয়ে সঞ্চালনা করেন কবি ও সাংবাদিক অধ্যাপক আবুল মোমেন।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপচার্য তপধীর ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ড. মুহিবুল আজিজ, সাহিত্যিক ফেরদৌস আরা আলিম, নিলুফার আক্তার শিল্পী প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলা কবিতা শুরু থেকে সবসময় পরিবর্তনশীল। যুগে যুগে এ ধারা বহমান। বাংলা কবিতা কখনো এক আঙ্গিকে চলেনি। দশকে দশকে এই পরিবর্তন হয়ে আসছে। প্রতিদিন প্রতিনিয়ত বাংলা কবিতার গতিপ্রকৃতি পাল্টাচ্ছে। নতুন নতুন ভাব ধারায় নতুন ভাষায় কবিরা তাদের কবিতা লিখে যাচ্ছে। বঙ্গীয় রেনেসার পর কবিতা পরিবর্তন হয়ে আসছে। ৮০ ও ৯০দশকের পরে কবিতার পরিবর্তনশীলতা বেশি দেখা যায়।
কবিতা লিখিত হয়ে যাওয়ার পর কবিতার বিষয় পরিবর্তন হতে বাধ্য। কবিতা সময়ের ঢেউয়ে পরিবর্তিত হয়ে আসছে। তীর্যক বিষয় হচ্ছে পাঠকের কাছে কি জিজ্ঞাসা কবিতা কি পাল্টাবে, নাকি কবিতা আগের অবস্থায় থাকবে। পাঠকের উপর নির্ভরশীল। তথ্য প্রযুক্তির অভাব প্রবাহের বাইরে যাওয়া কঠিন। তাই কবিতা জীবন বাস্তবতা এবং বিশ্ববাস্তবতার নানান কারণে পরিবর্তনশীল। প্রস্তুতি ছাড়া কেউ এগোতে পারে না। মানুষ নানান প্রস্তুতির মাধ্যমে তার কবিতার ধারা পাল্টে দিতে বাধ্য।
একজন কবি ১০ বছর আগে যে কবিতা লিখেছে ১০ বছর পরে একই ভাষায় সে কবিতা লেখা সম্ভব নয়। দ্বিতীয় পর্বে বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। এখন আমাদেরকে এই মাধ্যমে সুব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে যাতে করে তরুণ যুবকরা কোনভাবেই বিপদগামী না হয়। ৩য় পর্বে মননশীল সাহিত্য বিষয়ে আলোচনায় বক্তারা বলেন, চিন্তার গভীরতা এবং ভাবনার জগৎ বিশাল হওয়ার মধ্য দিয়ে আমাদেরকে মননশীল সাহিত্য রচনা করে যেতে হয়। বৈশ্বিক যে কালান্তর চলছে তা থেকে আমাদের উত্তরণের পথ খুজতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন, মুক্ত বাজার অর্থনীতি এবং বিশ্বরাজনীতিকেও বড় ধরণের পরিবর্তন করতে চলেছে প্রযুক্তির প্রভাবে। মানুষের চিন্তার জগত প্রসারিত করতে হলে পরিবর্তনগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বক্তারা বলেন বহু মাত্রিককতা ছাড়া সৃষ্টিশীল ও মননশীল সম্ভব নয় জীবন ও জগতের মধ্যে বাস করে আমরা প্রতি মূহুর্তে অভিজ্ঞ হয়ে উঠছি। আমাদেরকে স্বকিয় পর্যবেক্ষক হিসেবে একজন পাঠকের কাছে নন্দিত হতে হবে। সৃজনশীল সাহিত্য চর্চার জন্য মুক্তবুদ্ধি চর্চার বিকল্প নেই।
আজ ২০ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলা মঞ্চে লেখক সম্মিলনে উপস্থিত থাকবেন লেখক ফারুক মঈনুদ্দীন, জিএইচ হাবিব, অজানা দত্ত, সঙ্গীত শিল্পী পার্থ বড়ুয়া, গীতিকার শেখ মাহমুদ জঙ্গি, গীতিকার ছাদেকা বেগম, গীতিকার সৈয়দ মহিউদ্দিন, প্রকাশক দীপঙ্কর দাশ, কবি আলম খুরশিদ সহ আরও অনেকে। আজকের অনুষ্ঠান সমূহে বই প্রেমি সকলকে উপস্থিত থাকার বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সভা শেষে আমেরিকা প্রবাসী লেখক ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরীর আমার মুক্তি আলোয় আলোয় আত্ম জৈবনিক গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোছলেম উদ্দিন আহমদ এমপি সহ অতিথিবৃন্দ।
