গোলাম সরওয়ারঃ চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ত্রাণপ্রত্যাশীদের মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ ত্রাণ পেয়েছেন। যেসব সরকারি ত্রাণ বরাদ্দ হয়েছে, বিতরণে ধীরগতির কারণে তার ৬৯ শতাংশই এখনো পৌঁছেনি অভাবী মানুষের কাছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে সমন্বয়হীনতাও। ফলে কর্মহীন হয়ে পরার বিশদিন পরও ত্রাণ না পেয়ে কষ্ট বেড়েছে অসহায় মানুষের।
বিশদিন ধরে কর্মহীন। ফুরিয়ে গেছে সঞ্চিত খাবারও। তাই ত্রাণের আশায় মানুষের জটলা চট্টগ্রাম নগরীর রুবি গেট এলাকায়। নগরীর নিম্নবিত্তদের চিত্র কমবেশী এমনই। যেখানে ত্রাণের দাবিতে বিক্ষোভ কিংবা সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে।
নগরীতে সরকারি খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরদের মাধ্যমে। তাদের তথ্যমতে, ত্রাণ প্রত্যাশী পরিবার আছে তিন লাখ ১৭ হাজার। যাদের মোট সদস্য সংখ্যা দাড়ায় প্রায় ১৬ লাখ। কিন্তু শুক্রবার পর্যন্ত নগরীতে ত্রাণ পৌছেছে মাত্র ৩৬ হাজার ৭৫৭ পরিবারে। যা মোট প্রত্যাশীর মাত্র ১১ ভাগ। ১৯ জন কাউন্সিলরের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, প্রতিজন গড়ে ৬৬৮ টি পরিবারে ত্রাণ দিয়েছেন।
অথচ জেলা প্রশাসন বলছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশনকে ৫শ ৯০ মেট্রিকটন সরকারি চাল এবং সাড়ে ১৬ লাখ টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে সহায়তা দেয়ার কথা এক লাখ ৩৭ হাজার পরিবারকে। অথচ বরাদ্দ করা ত্রাণের বিতরণ হয়েছে মাত্র ৩১ শতাংশ। অর্থাৎ ৬৯ শতাংশই বিতরণ হয়নি।
তবে কর্পোরেশনের দাবি, তারা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩৯০ মেট্রিকটন চাল পেয়েছে। যা দিয়ে ৭৮ হাজার পরিবারকে ত্রাণ দেয়ার কথা থাকলেও শুক্রবার পর্যন্ত পেয়েছে ৩৬ হাজার ৭৫৭ পরিবার। যদিও প্রথমদিকে ধীরগতি থাকলেও এখন দ্রুত ত্রাণ দেয়া হচ্ছে বলে দাবি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহীর।
বিপুল সংখ্যক ত্রাণ প্রত্যাশীর বাইরে আরো আছে সাময়িক কর্মহীন হয়ে পড়া মধ্যবিত্ত পরিবার। যার সংখ্যাও কম নয়।
