পটিয়ায় গণধর্ষণের শিকার নববধূ

0

সুজিত দত্ত, পটিয়া প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামে পটিয়া কোলাগাঁও এলাকায় স্বামীকে গাছের বেঁধে রেখে নববধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের বড়ুয়াপাড়া এলাকায় গত ৭ জুন রাতে এ ঘটনা ঘটে । ধর্ষণের পর নববধূর স্বামীর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন সেট ও ১৩ হাজার টাকা ছিনতাই করেছে ধর্ষকরা।

এ ঘটনায় গত ১৩ জুন পটিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগের পর প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ।

গত প্রায ৯ মাস আগে কোলাগাঁওস্থ ইউনিয়নে আরো ৩টি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। একই এলাকায় কয়েকটি খুন ও বরযাত্রীবাহী বাসে গণ ডাকাতির ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- কোলাগাঁও ইউনিয়নের খায়ের উল্লাহ সওদাগরের বাড়ির বাসিন্দা মৃত আবুল হোসেনের পুত্র মোহাম্মদ হান্নান (৩৩), বাদশা মিয়ার পুত্র মন্টূ (৩১), ফোরক মাঝির পুত্র জুয়েল (২৯) ও আজিজুল হক মেম্বারের বাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ ছত্তারের পুত্র মিন্টূ (৩৩)। অন্য দুজন অজ্ঞাত। এদের মধ্যে ১নং আসামি চিহিৃত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে নগরীর কোতোয়ালী থানায় মাদকের একটি মামলা রয়েছে। সে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মে সাথে জড়িত রয়েছে বলে এলাকার লোকজন সুত্রে জানা যায় ।

নববধূর লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গত ৭ জুন বোয়ালখালীস্থ তার বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর সাথে কোলাগাঁস্থ ভাড়া বাসায় যাওয়ার পথে রাত সাড়ে ৯ টার বড়ুয়া পাড়া এলাকায় ৭ জন বখাটে তাদের পথরোধ করে। তার স্বামীকে মারধর করে একটি গাছের বেধেঁ রেকে নববধূকে নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে পালাক্রমে আসামিরা নববধুকে গণধর্ষণ করে।

রাত ১ টার তারা তাকে এবং তার স্বামীকে ছেড়ে দেয়। ছেড়ে দেয়ার আগে তার স্বামীর মোবাইল সেট ও পকেট থেকে ১৪ হাজার টাকা নিয়ে যায় । ভিকটিম জানান, ১৫-২০ দিন আগে ঘরোয়া ভাবে তার বিয়ে হয়। করোনার ভাইরাসের সংক্রমণনের ফলে সামাজিকতা হয়নি। তার স্বামী পেশায় মাঝি। তারা সামশু আলম চেয়ারম্যানের বাড়ি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো বোরহান উদ্দিন বলেন , গত ১৩ জুন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর কোলাগাঁও পুলিশ ফাঁড়ির আইসিকে তদন্তের জন্য দেয়া হয়েছে । প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলার রেকর্ড করার প্রক্রিয়া চলছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, গত ৫ মাস আগে গত বছরের ১৮ নভেম্বর কোলাগাঁস্থ একটি মাজারে জেয়ারত শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়। পর দিন ধর্ষকদের নিয়ে কিশোরীর পরিবারের সাথে সমঝোতা বৈঠক চলার সময় পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের নির্মাণধীন নতুন বাড়ির ছাদ থেকে ৩ ধর্ষককে আটক করছি এ সময় পালিয়ে যায় আরো ৩ ধর্ষক।

এছাড়া গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর কোলাগাঁওয়ে ওমান প্রবাসীর স্ত্রী আত্বীয়ের বাড়ি থেকে নিজ ঘরে ফেরার পথে চার সন্তানের জননী গণধর্ষণের শিকার হয়। উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের নলান্ধা গ্রামে একটি জঙ্গলে নিয়ে তাকে গণধর্ষণ করে চার যুবক। এরপর তাকে নির্জন ওই জঙ্গলে ফেলে রেখে চলে যায় ধর্ষকরা। পরে এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ অভিযুক্ত দুই ধর্ষককে আটক করে।

এর আগে ২ অক্টোবর স্কুল থেকে ফেরার পথে নির্জন স্থানে নিয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের শিকার স্কুল ছাত্রী চরকানাই বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লোকমান হাকিমকে (৩০) কে গ্রেপ্তার করে। সে কোলাগাঁও ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদ মুছার পুত্র।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.