৩০ হাজার দূর্গা মন্ডপে ৫০০ কেজি করে চাল

0

সিটিনিউজবিডি : আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উৎসব পালন করতে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। প্রতি পূজা ম-পের জন্য ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গতকাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়।

পূজা ম-পগুলোর জন্য চাল বরাদ্দ সংক্রান্ত চিঠি থেকে জানা গেছে, সরকার শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের জন্য দেশের ৬৪টি জেলার ২৯ হাজার ৩০২টি পূজা ম-পের অনুকূলে ম-পে আগত ভক্তদের আহার বাবদ বিতরণের নিমিত্তে মন্ত্রণালয়ের বাজেট থেকে ১৪ হাজার ৬৫১ মেট্রিক টন চাল জেলা প্রশাসকের অনুকূলে বরাদ্দ প্রদানের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর মঞ্জুরি প্রদান করেছে।

গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, পূজা ম-পের সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার ৮১২টি। এর বিপরীতে চাল বরাদ্দ ছিল ১৩ হাজার ৯০৬ মেট্রিক টন। গত বছরের তুলনায় এবারে পূজা ম-পের সাথে বেড়েছে চাল বরাদ্দের পরিমাণও।মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দপত্রে সম্ভাব্য পূজা ম-পের সংখ্যায় রাজধানী ঢাকায় পূজা ম-প ১০৭৩টি, নারায়ণগঞ্জে ১৫৪টি, মুন্সিগঞ্জে ২৭৩টি, নরসিংদীতে ৩০১টি, মানিকগঞ্জে ৪৫৫টি, গাজীপুরে ৩৫৩, ময়মনসিংহে ৭০২, কিশোরগঞ্জে ৩৬৯, জামালপুরে ১৮৮, শেরপুরে ১৪২, নেত্রেকোনায় ৪৪০, টাঙ্গাইলে ১১০৮, ফরিদপুর ৭৬৩, মাদারীপুরে ৩৯৫, শরীয়তপুরে ৯০, রাজবাড়ীতে ৩৯৫, গোপালগঞ্জে ১১৩৩, চট্টগ্রামে ১৯৬০, কক্সবাজারে ২৭৬, রাঙ্গামাটিতে ৪০, বান্দরবনে ২৬, খাগডাছড়িতে ৪৭, নোয়াখালীতে ১৫৫, ফেনীতে ১৩৯, লক্ষ্মীপুরে ১৭৪, কুমিল্লায় ৭৩২, চাঁদপুরে ১৯৮, ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় ৫২৫, সিলেটে ৫৩৫, সুনামগঞ্জে ২৯৫টিসহ বাকি আরো ২৯টি জেলায় পূজা ম-পের সংখ্যা উল্লেখ করে দিয়ে তার জন্য প্রতি ম-পে ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বরাদ্দের চিঠি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সকল জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে জেলা প্রশাসকদের শর্ত হিসেবে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসকগণ তাদের জেলাধীন পূজা ম-পের সংখ্যা, আকার ও ব্যাপকতা, আর্থিক সামর্থ্য, সচ্ছলতা দরিদ্রতা এবং সংশ্লিষ্ট অন্য বিষয়াবলী বিবেচনা করে উপজেলা ওয়ারী চাল বরাদ্দ করবেন। ম-পের তালিকা অনুযায়ী জেলা প্রশাসক পূজা ম-পসমূহে ম-পপ্রতি সর্বোচ্চ ৫০০ কেজি হারে চাল বিতরণ করবেন। ম-প সংখ্যা কম হলে অতিরিক্ত অব্যয়িত চাল মজুদ রেখে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবেন।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে এবারের আয়োজনের মধ্যে রয়েছে ১৮ অক্টোবর বেদীর ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ, ১৯ অক্টোম্বর সপ্তমিতে সকালে মহাসপ্তমি পূজা, সন্ধিপূজা, ২০ অক্টোবর সকালে দেবীর মহাষ্টমি পূজা আরম্ভ, রাত ১১টা থেকে ১১টা ৫২ মিনিটে সন্ধিপূজা, ২১ অক্টোবর পূর্বাহ্নে দেবীর মহানবমী পূজা সমাপন ও ২২ অক্টোবর সকাল ৯টা ৫৩ মিনিটে দশমীপূজা আরম্ভ এবং সকাল ১০টা ৫১ মিনিটে পূজা সমাপন ও রাতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হবে বলে তিনি জানান।এ বছর সারা দেশে সাড়ে ২৮ হাজার থেকে ২৯ হাজারের কাছাকাছি দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করছেন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা।

পরিষদের তথ্যমতে, ২০১৪ সালে সারা দেশে ২৮ হাজার ৩৫৮টি, ২০১৩ সালে ২৮ হাজার ২০০টি, ২০১২ সালে ২৭ হাজার ৮শ’টি ম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, দীর্ঘ ঐতিহ্য লালিত ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এবারও ব্যাপক অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে উদ্যাপন হবে দুর্গোৎসব। এরই মধ্যে ভক্ত-অনুরাগীদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। আমরা আশা করি, সব মানুষ শান্তিতে ও নির্ভয়ে এই আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.