সিটি নিউজঃ আল্লামা শফীর শ্যালক ও মামলার বাদী মো. মাঈন উদ্দীন অভিযোগ করে বলেছেন,।হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমির আহমদ শফীর মৃত্যু নিয়ে জুনায়েদ বাবুনগরী মিথ্যাচার করছেন।
আজ শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) বেলা পৌঁনে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মলেনে তিনি এ দাবি করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন শফিপুত্র হেফাজতের সাবেক প্রচার সম্পাদক মাওলানা আনাস মাদানীর অনুসারি হিসেবে পরিচিত মাওলানা মঈউদ্দিন রুহীসহ অন্যান্যরা।
আহমদ শফিকে পাকিস্তানের দোসর জামায়াত-শিবিরের প্রেতাত্মারাই হত্যা করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, জুনায়েদ বাবুনগরীর মতো একজন আলেম সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যাচার করেছেন। তিনি বলেছেন- আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল, তার পরিবার থেকে যে মামলা করা হয়েছে তা ষড়যন্ত্রমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
মঈন উদ্দিন বলেন, ‘গত ১৬-১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাটহাজারী মাদ্রাসায় কি ঘটেছে বা কি ঘটেছিল- আপনারা সবাই জানেন। কওমি ভিশনের মাধ্যমে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাটহাজারী মদ্রাসায় অবস্থান করে সকল ঘটনা লাইভ প্রচার করেছেন। আপনারা দেখেছেন শহীদ আল্লামা শফী হুজুরের রুম কিভাবে ভাংচুর ও লুটতরাজ করা হয়েছে। শফী হুজুরকে হত্যা করার জন্য বারংবার হুমকি দেয়া হয়েছে। মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনীর, মীর ইদ্রীস, মাওলানা শহীদুল্লাহ, মাওলানা ইনআমুল হাসান, মাওলানা জুনায়েদ উপস্থিত থেকে জোরপূর্বক শফী হুজুরকে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভগ্নিপতী আল্লামা শাহ আহমদ শফী হুজুরের জানাযাকালীন সময়ে জুনায়েদ বাবুনগরীর সরাসরি হস্তক্ষেপে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, বিএনপি, নিষিদ্ধ ঘােষিত জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের পরিকল্পিত অবস্থান লক্ষণীয় ছিল। আমার ভাগিনা মাওলানা ইউসুফ জানায়া পড়িয়েছিল। জানাযা পূর্ব ইসলামের রীতি অনুযায়ী সন্তানের বক্তব্য রাখার কথা। যদিও তিনি বক্তব্য রাখেছেন কিন্তু জুনায়েদ বাবুনগরীর দোসররা তার বক্তব্যকে সীমিত ও নির্ধারিত করে দিয়েছিল। ফলে আমার ভাগিনা তার অন্তরে লুকিয়ে থাকা কষ্টগুলাে সেদিন বলতে পারেনি।’
সংবাদ সম্মেলনে মঈন উদ্দিন বলেন, ‘জুনায়েদ বাবুনগরী সংবাদ সন্মেলনে বলেছেন- শহীদ আল্লামা শাহ আহমদ শফী হুজুরের বড় ছেলে তার পিতার মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে হয়েছে। আমার ভগ্নিপতীর মতো আমার ভাগিনাকেও হত্যা করবে বলে তার ৩ ছেলেকে দেশিয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের সাজানাে বক্তব্য দিতে বাধ্য করেছিলেন। ইতোমধ্যেই ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আমার ভাগিনা ওই দিন কোন পতিবেশে বক্তব্য দিতে বাধ্য হয়েছিলেন তা দেশবাসীকে জানিয়েছেন। বাবুনগরী সবকিছু জেনে, বুঝে আমার নাম ব্যবহার করে মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
‘আমরা আল্লামা শাহ আহমদ শফী হত্যার বিচার চেয়ে কোর্টে মামলা করেছি। কোর্ট পি বি আইকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। তদন্তে দোষীরা চিহ্নিত হবে, কিন্তু দুঃখের বিষয় জুনায়েদ বাবুনগরী, মামুনুল হক গংরা একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন মামলা প্রত্যাহারের জন্য। আমরা জানতে পেরেছি মাদ্রাসার অনেক নিরীহ শিক্ষক ও ছাত্রদের জুনায়েদ বাবুনগরী ব্যক্তিগতভাবে উষ্কানি দিচ্ছেন। উদ্দেশ্যপ্রণােদিতভাবে হাটহাজারী মাদ্রাসাকে বাবহার করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আমরা হাটহাজারী মাদ্রাসার মতাে পবিত্র জায়গাকে কলুষিত করার জন্য এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’- যোগ করেন মঈন উদ্দীন।
