আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিশরে রাশিয়ার বিমান ভূপাতিত করার যে দাবি ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট জঙ্গিরা করেছে তা নিছক প্রচারণা বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি। তিনি মঙ্গলবার বিবিসি’কে বলেছেন, অত তাড়াতাড়ি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ বলা যাচ্ছে না।
কোগালিমাভিয়া এয়ারলাইনসের ভাড়া করা এয়ারবাসটি (এ-৩২১) সিনাইয়ের দক্ষিণের শারম আল-শেখ থেকে শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৫টা ৫১ মিনিটে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। এর কিছুসময় পরই সিনাই উপদ্বীপের প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে এটি বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় বিমানের ২২৪ আরোহী সবাই নিহত হন। বিমানের ২১৭ যাত্রীর মধ্যে ২১৪ জনই রুশ নাগরিক। বাকি তিনজন ইউক্রেনের।
সোমবার কোগালিমাভিয়া এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তা বিমান দুর্ঘটনার জন্য ‘বাহ্যিক প্রভাবকে’ দায়ী করার পর মিশরের প্রেসিডেন্ট এ মন্তব্য করলেন। তবে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় বিমান সংস্থার প্রধান আলেকজান্দার নেরাতকো তার এ বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন, এ ধরণের কথা অপরিপক্ক এবং এ বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই।
মিশরের প্রেসিডেন্ট সিসি বলেন, রাশিয়ার বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে আগ্রহী সবাই তদন্তে অংশ নিতে পারেন। তিনি আরো বলেন, ‘যখন প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে আইএস বিমানটি ভূপাতিত করেছে, তখন মিশরের ভাবমূর্তি ও দেশটির স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। তবে বিশ্বাস করুন, সিনাইয়ের পরিস্থিতি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে।’
আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি জঙ্গি গোষ্ঠী রাশিয়ার যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। তবে তাদের এ দাবি নাকচ করে দেয় কায়রো ও মস্কো।
মিশরের প্রধানমন্ত্রী শরিফ ইসমাইল এই দাবি নাকচ করে বলেন, কোগালিমাভিয়া এয়ারলাইন্সের ভাড়া করা এয়ারবাসটি (এ-৩২১) ৩০ হাজার ফুট উপর দিয়ে উড়ছিল। আর এত উঁচুতে কোন বিমানকে ভূপাতিত করা সম্ভব নয় বলে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, কোগালিমাভিয়া এয়ারলাইন্স বর্তমানে মেট্রোজেট নামে ফ্লাইট পরিচালনা করে।
