দুবাইয়ে আগামী ১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিট। এতে অংশগ্রহণ করবেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস, ৩০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, ১৪০টি দেশের প্রতিনিধি এবং ১০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান। এই সামিটে প্রযুক্তি উদ্ভাবন, অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং শাসনসহ বর্তমান এবং ভবিষ্যতের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
দুবাইয়ের প্রবাসী বাংলাদেশিরা ড. ইউনূসের এই সফর নিয়ে অত্যন্ত উৎসাহী। তারা আশা করছেন, দীর্ঘদিনের ভিসা জটিলতা সমাধান হবে এবং জুলাই আন্দোলনে সাজাপ্রাপ্ত ১৯৬ জনকে ড. ইউনূসের সুপারিশে দেশে পাঠানো হবে।
এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের ভিসা সেবা পুনরায় চালু, স্থানান্তর এবং সহজীকরণ বিষয়ক আলোচনা আশা করা হচ্ছে, যা প্রবাসীদের জন্য এক আশার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। ড. ইউনূসের এই সফর বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও বাড়াবে, এমন আশা করছেন প্রবাসীরা।
বাংলাদেশি প্রবাসী প্রতিনিধিরা বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তাঁর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে সক্ষম হবেন। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন, শারজাহ এর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার সফর সকল প্রবাসীর জন্য আনন্দের। কারণ তিনি আসলে ভিসা জটিলতা নিরসন করবেন। এবং প্রবাসীরাও দেশীয় শ্রমিক সংকট নিরসনে ব্যবসা-বাণিজ্য এগিয়ে যেতে পারবেন।”
আরব আমিরাত বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “ড. মোহাম্মদ ইউনূস এর আগমনের খবরে সকল প্রবাসীরা খুশি। তাতে করে দীর্ঘদিনের বন্ধ ভিসা চালু হবে এমন প্রত্যাশা করছেন প্রবাসীরা।”
আরব আমিরাত বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, “বিশ্বখ্যাত ড. মোহাম্মদ ইউনূস আরব আমিরাতে আসবেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত উৎসাহজনক। ভিসা সমস্যা সমাধান এবং দেশের বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর জন্য তিনি আরব আমিরাত সরকারের সাথে আলোচনা করবেন, এমন প্রত্যাশা আমাদের রয়েছে।”
বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও সংগঠক হাজী শরাফত আলী বলেন, “মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনূস এ দেশে আসার খবরে আমরা খুবই উৎফুল্ল। ড. মোহাম্মদ ইউনুস এর সারা বিশ্বে যে ব্যক্তি মর্যাদা রয়েছে । তা আমিরাত সরকারের সাথে আলোচনা করলে আমাদের ভিসা সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করি।”
বাংলাদেশ কনস্যুলেট দুবাই এর সাবেক কনসালটেন্ট মীর কামাল বলেন, “জুলাইয়ের ঘটনার পর বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে শংকা তৈরি হয়েছিল, তা এখন দূর হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে, যা তাঁর সফরকে অত্যন্ত গুরুত্ববহ করে তোলে।”
আল বুরাক গার্মেন্টস গ্রুপের চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম মাহবুব বলেন, “ড. ইউনূসের আগমন আমাদের জন্য আনন্দের। ভিসা সমস্যা সমাধান হলে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে।”
ড. মোহাম্মদ ইউনূসের আরব আমিরাতে আগমন প্রবাসীদের মধ্যে নতুন আশা এবং উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তাঁর বিশ্বব্যাপী মর্যাদা এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে আশা করা হচ্ছে, আরব আমিরাত সরকারকে তিনি ভিসা জটিলতা সমাধানে সাহায্য করতে পারবেন এবং বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে সক্ষম হবেন।
