চট্টগ্রামে এশিয়ার স্টিল জায়ান্টদের মিলন মেলা

0

চট্রগ্রাম :: চট্টগ্রামের পাচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু বে- ভিউতে এশিয়ার স্টিল জায়ান্টদের মেলা বসেছে। ‘স্টিল এন্ড র’ মেটরিয়েল কনফারেন্স- এমারজিং মার্কেট শীর্ষক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছে ভারত, চীন, কোরিয়া, জাপান, জার্মানীসহ আরো কয়েকটি দেশের লোহা ও লোহাজাত শিল্প প্রতিষ্ঠানের শতাধিক প্রতিনিধি।
শনিবার দিনব্যাপি চলা এই অনুষ্ঠানের আয়োজক ভারতের স্টিলমিন্ট ইভেন্টস ।

বিদেশী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের লোহা ও লোহাজাত সামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তারাও হাজির ছিলেন এই অনুষ্ঠানে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান স্টিলমিন্টের ম্যানেজার বিজনেস ডেভেলাপমেন্ট অমিত হাবলানী জানিয়েছেন, বাংলাদেশের লোহাজাত শিল্পে স্ক্র্যাপ ও অনান্য কাচামাল সরবরাহের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যত পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

“নব্বইটি প্রতিষ্ঠানের শতাধিক প্রতিনিধি স্টিল এন্ড র’ মেটরিয়েল কনফারেন্স অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেছেন, এসব প্রতিনিধিদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই অনুষ্ঠান সফল হয়েছে ভবিষ্যতে এই ধরনের আরো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, উল্লেখ করেন তিনি।
মোট চার পর্বের এই অনুষ্ঠানে চারটি নির্ধারিত বিষয়ের উপর অালোচনা করেন নির্ধারিত আলোচকরা। বিষয়গুলো হচ্ছে, অগ্রসরমান বাংলাদেশ, বাংলাদেশে লোহাজাত স্ক্র্যাপ, লোহাপ্রস্তুতকরন প্রযুক্তি প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ এবং লোহার বিশ্ব বাজার।

সকালে অগ্রসরমান বাংলাদেশ পর্বে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্য নীতি শীর্ষক বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম, বিশ্ব লোহার শিল্প – অগ্রসরমান বাজারে ভবিষ্যত শীর্ষক বক্তব্য রাখেন আবুল খায়ের গ্রুপের সিইও ভিআর শর্মা, বাংলাদেশের অগ্রসরমান লোহা শিল্প শীর্ষক বক্তব্য রাখেন আনোয়ার ইস্পাত লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মানোয়ার হোসেন। বাংলাদেশে লোহার চাহিদার ভবিষ্যত শীর্ষক বক্তব্য রাখেন বিএসআরএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমির আলী হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তেব্যে চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম বলেন, “বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনীতির পরিচর্যা চলছে নানা ভাবে, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অনান্য সমস্যা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা চলছে, এখানকার সবাই সেই ব্যাপারে খুবই সচেতন।”

আনোয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন বলেন, “বাংলাদেশে লোহাজাত পণ্যের চাহিদা বাৎসরিক পঞ্চাশ লক্ষ টন, এরমধ্যে শুধু রডের চাহিদাই চল্লিশ লক্ষটনের মত, সরকারি হিসেবে লোহার চাহিদা বৃদ্ধির হার ১০ থেকে ১৫শতাংশ দেখানো হলেও বাস্তবে এই হার ৩০শতাংশের কাছাকাছি।”

বাংলাদেশে লোহা শিল্পের কাচামালের উল্লেখযোগ্য অংশই অাসে জাহাজ ভাঙ্গার স্ক্র্যাপ লোহা থেকে, এখনো প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া আকরিক ও কয়লা থেকে লোহাজাত পণ্য উৎপাদনের মত পরিস্থিতি বাংলাদেশে নেই, উল্লেখ করেন তিনি।

মনোয়ার হোসেন আরো বলেন, “বাংলাদেশের লোহা শিল্প দ্বিতীয় প্রজম্মে প্রবেশ করছে, ক্ষুদ্র পর্যায়ে স্থাপিত কারখানাগুলোকে শীঘ্রই বড় আকারের শিল্পে নিয়ে যেতে হবে, এরজন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

স্টিল এন্ড র’ মেটরিয়েল কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের লোহা শিল্পের কাচামাল সরবরাহকারী মাইতান গ্রুপের পরিচালক ভিশাল আগারওয়াল বলেন, ভারতে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে লোহার আকরিক, কয়লা এবং অনান্য সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমানে আছে, বাংলাদেশের বিকাশমান লোহাশিল্পের জন্য এটা একটা সুযোগ।”
“উন্নত বিশ্বে মাথাপিছু লোহা ব্যবহারের পরিমান ৩শ কেজির মত, ভারতে হচ্ছে এক কেজি আর বাংলাদেশে মাত্র ৩০ কেজি লোহা ব্যবহার হচ্ছে, এখানকার অর্থনীতি যেভাবে এগুচ্ছে তাতে আগামী পাচ বছরে বাংলাদেশে মাথা পিছু লোহার ব্যবহার ৬০কেজিতে উন্নীত হবে, উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.