শহিদুল ইসলাম উখিয়া: কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে রোহিঙ্গা বিদ্রোহী আর এসও নেতা আবুল শমা ১৬০ জন সদস্য নিয়ে গঠন করেছে টাইগার বাহিনী। এ বাহিনীর হাতে ১৩ হাজার সাধারন রোহিঙ্গা জিম্মি হয়ে পড়েছে। কিছু দিন আগে নাইক্ষ্যংছড়ীর গহীন জঙ্গলে প্রশিক্ষন নিতে গিয়ে আর এসওর সদস্য কুতুপালং ডি ব্লকের ২২ নং শেডের মৃত আছহাব উদ্দিনের ছেলে নুরুল হাকিম মারা যাওয়ার ঘটনায় ক্যাম্পের অভ্যন্তরে চলছে তোলপাড়।
জানা গেছে, রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠন (আর এসও) সলিডারেটি অরগাইনিজেশনের সদস্যদের সাথে আর ই এফ এর মধ্যে গত শনিবার গভীর রাতে দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে আলী আহম্মদ, ওমর হামজা ও আবুল কালাম গুলি বৃদ্ধ হয়। আদিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটলে ও ক্যাম্প প্রশাসন নিচ্ছুপ ভাবে বসে রয়েছে। ইতি মধ্যে আর এসওর শীর্ষ নেতা আবুল হোসনের ছেলে এফ ব্লকের বাসিন্ধা আবুল শমা ও আবু তাহের ১৬০ সদস্য নিয়ে গঠন করেছে টাইগার বাহিনী। তারা পৃথক পৃথক ভাবে দলবদ্ধ হয়ে ১৩ হাজার রেজিস্ট্রাট রোহিঙ্গাকে নিয়ন্ত্রন করছে।
তাদের এ কাজে ক্যাম্প পুলিশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যার ফলে সাধারন রোহিঙ্গারা জিম্মি হয়ে পড়েছে ওই বাহিনীর হাতে। আবুল শমার সাথে একই ক্যাম্পের আবু তাহের, জিয়া ও মোঃ ইউনুছ ইতি মধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ীর গহীন অরন্য আর এসও ঘাটিতে ২১৬ জন রোহিঙ্গাকে প্রশিক্ষন দিয়েছে। কিছু দিন আগে ওই ক্যাম্পে প্রশিক্ষন নিতে গিয়ে মারা যান কুতুপালং ডি ব্লকের বাসিন্ধা নুরুল হাকিম। তার স্ত্রী নুর জাহান বেগম তার স্বামীকে খুঁজতে গেলে আর এসও নেতা আবুল শমার মাধ্যমে ৬ লক্ষ টাকা প্রদান করেছে। এ নিয়ে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে চলছে তোলপাড়।
নাইক্ষ্যংছড়ীর বুচি এলাকায় রোহিঙ্গা জঙ্গীদের ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতা মনির আহম্মদ, আবু তাহের, আবু ছৈয়দ ও ডাকাত আবু তৈয়ব সাধারন রোহিঙ্গাদের জিম্মি করে ওই ক্যাম্পে প্রশিক্ষনের জন্য পাটিয়ে থাকে বলে কুতুপালং এফ ব্লকের বাসিন্ধা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোহিঙ্গা মৌলভী জানিয়েছেন। কুতুপালং ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ জাহাঙ্গী আলম ওই জঙ্গী রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করায় ওই সব জঙ্গী রোহিঙ্গারা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে টাইগার বাহিনীর সদস্যরা সাধারন রোহিঙ্গাদের জিম্মি করে চাঁদা আদায় করে থাকে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম তার বিরুদ্ধে উত্তাপিত অভিযোগঅস্বীকার করেছেন।
