সিটিনিউজবিডিঃ জোহানেসবার্গে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ক্রিস মরিসের দুর্দান্ত এক ইনিংসে শুক্রবার রাতে স্বাগতিকরা জয় পেয়েছে মাত্র এক উইকেটে। জিততে জিততে হেরে যাওয়া ম্যাচে তাই সিরিজ জেতা হল না ইংলিশদের। বরং পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-২ ব্যবধানে সমতায় ফিরে উল্টো সুযোগটা থেকে গেল প্রোটিয়াদের জন্যও। কেপটাউনে রোববার শেষ ম্যাচ জিতে গেলে সিরিজ জয়ের সুযোগ থাকছে স্বাগতিকদেরও।
টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে দ্রুতই সফরকারীদের ইনিংস গুটিয়ে দিতে পারতো দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু ১৮ রানে ওপেনিং জুটি ভাঙলেও দ্বিতীয় উইকেটে বেশ খানিকটা প্রতিরোধ গড়তে সক্ষম হয় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় উইকেটে ৬৯ রানের জুটিই শুধু গড়েননি, দুজন ব্যাটসম্যানই ভালো রান করেছেন। অ্যালেক্স হেলস হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ হওয়ার পর আউট হলেও জো রুট করেন সেঞ্চুরি। ১২৪ বল থেকে ১০টি চার ও একটি ছক্কার মারে তার করা ১০৯ রানই ইংলিশদের ২৬২ রানের লড়াকু ইনিংস গড়তে সহায়তা করে।
টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অন্য কেউ ব্যাট হাতে তেমন কোনো সাফল্য পাননি। তবে লেজের দিকে এসে ক্রিস ওয়াকস ও আদিল রশিদ এসে আবারো কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। ওয়াকস ৩৩ ও রাশিদ ৩৯ রান করেন। তথাপি নির্ধারিত খেলা থেকে ১৩ বাকি থাকতেই ইংল্যান্ড অলআউট হয় ২৬২ রানে। প্রোটিয়া বোলারদের মধ্যে কাগিসো রাবাদা চারটি, ইমরান তাহির তিনটি এবং কাইল অ্যাবট দুটি করে উইকেট নেন।
জবাব দিতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকাও ধুকতে থাকে ব্যাট হাতে। এককভাবে কেউ বড় স্কোর গড়তে পারেননি। তবে শুধু হাশিম আমলা ডাক (শূন্য) মারেন। টপ ও মিডল অর্ডারের বাকি ব্যাটসম্যানরা অবশ্য ইনিংসে কমবেশি অবদান রাখেন। তবে দলকে জয় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার মতো শক্তিশালী ইনিংস কেউ খেলতে পারছিলেন না। সেমময় ত্রাতা হিসেবে আবির্ভুত হন ক্রিস মরিস। ৩৮ বল থেকে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় তার ৬২ রানের ইনিংসই প্রোটিয়াদের কোনোমতো জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। জয়সূচক ইনিংস খেলে ম্যাচসেরাও হয়েছেন মরিস।
পুনরায় দলে ডাক পাওয়ার যৌক্তিকতার প্রমাণ যেন ব্যাটেই দিলেন মরিস। যখন প্রোটিয়াদের অষ্টম উইকেটের পতন হয়, তখনো জয়ের জন্য ৫৩ রান প্রয়োজন ছিল। সেই খাদের কিনার থেকেই দলকে টেনে তুলেন মরিস। যদিও ব্যাটিং শুরর পরই দুবার মরিসকে আউট করার সুযোগ মিস করে সফরকারিরা। শেষ পর্যন্ত স্কোর লেভেল হওয়ার পর মরিস বোল্ড হয়ে যান রাশিদের বলে। তখনও এক উইকেট হাতে থাকায় রক্ষা হয় প্রোটিয়াদের। পরে শেষ জুটিতে ১৬ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করেন কাইল এ্যাবট ও ইমরান তাহির।
দক্ষিণ আফ্রিকার অন্য ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বেহারিদিয়ে ৩৮, ডি ভিলিয়ার্স ৩৬ ও ডুমিনি ৩১ রান করেন। ইংলিশ বোলারদের মধ্যে বেন স্টোকস, রিসি টপলে ও আদিল রাশিদি একটি করে উইকেট নেন।
