আন্তর্জাতিক ডেস্ক,সিটিনিউজবিডিঃ রুশ সামরিক অভিযানের নিন্দা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের জন্যই সিরিয়ায় সামরিক অভিযান শুরু করেছে মস্কো এবং তারা ওই অঞ্চলটিকে এখন ‘জলন্ত আগুনের’ মত ব্যবহার করছে। রুশ প্রধানমন্ত্রীর এক বক্তব্যের জবাবেই মূলতঃ এইসব অভিযোগ করেছেন মার্কিন সিনেটর ম্যাককেইন।
এর মাত্র একদিন আগে প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রে মেদভেদেভ বলেছিলেন, রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক এখন যে পর্যায়ে রয়েছে তাতে মনে হয় যেন ‘নতুন স্নায়ুযুদ্ধ’ শুরু হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সমালোচনা করে তিনি বলেছিলেন, ‘তাদের নীতি হচ্ছে রাশিয়াকে শক্রু হিসেবে বিবেচনা করা এবং সবকিছু থেকে দেশটিকে দূরে সরিয়ে রাখা। অবস্থার প্রেক্ষিতে মনে হয় নতুন একটি স্নায়ুযুদ্ধ ফিরে এসেছে।’ প্রতিদিন তারা ন্যাটো, ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ভয়াবহ সব হুমকি পেয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন রুশ প্রধানমন্ত্রী।
এর জবাবে জার্মানির মিউনিখে এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিনই আমাদের অংশীদার হতে আগ্রহী নন।’ এছাড়া রাশিয়ার কারণেই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বশির আল আসাদের শাসনকাল দীর্ঘ হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
গতবছরের সেপ্টেম্বর থেকে সিরিয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। যদিও এই অভিযানের ঘোর বিরোধী যুক্তরাষ্ট ও তার মিত্র দেশগুলো।
রুশ আগ্রাসনের সমালোচনা করতে গিয়ে ম্যাককেইন বলেন,‘মধ্যপ্রাচ্যে প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার খায়েশ রয়েছে রাশিয়ার। পুতিন তার সেনাহিনীর আধুনিকায়নের মহড়ার কাজে সিরিয়াকে ‘জলন্ত আগুনের মত’ব্যবহার করছেন।’
ম্যাককেইন আরো বলেন, তিনি (পুতিন)সিরিয়ার লাটাকিয়া প্রদেশটিকে সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করতে চাইছেন যা থেকে রুশ আগ্রাসন শুরু হবে এবং পরবর্তিতে এটি নতুন কালিনিনগ্রাদ, বা ক্রিমিয়া হিসেবে আবির্ভুত হবে। এর ফলে শরণার্থী সংকট বাড়বে এবং সেটিকে নতুন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে তিনি ট্রান্স-আটলান্টিক জোটে ভাঙন ধরাতে চায় এবং ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রকল্পগুলোকে অকার্যকর করতে চান।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ইউক্রেনের সেভাস্তপোল রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্রিমিয়া রাশিয়ার অঙ্গীভুত হয়েছে। এর বহু আগে অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ নাগাদ বাল্টিক সাগরের তীরবর্তী জার্মানির কালিনিনগ্রাদের সমুদ্রবন্দরটি দখলে নিয়েছিল মস্কো।
