সিলেট : খেলাধুলায় কোনো মেডেল না পাওয়ায় আফসোস করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সিলেট নগরীর টিলাগড়ে কাউন্সিলর আজাদ কাপ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে গিয়ে নিজের আফসোসের কথা জানান জনপ্রিয় ওই প্রতিমন্ত্রী।
পাঁচ বছর বয়সেই তারকা বনে যাওয়া টেলিভিশনের এক সময়ের শিশুশিল্পী তারানা হালিম বলেন, ‘আমি ক্লাসে সব সময় প্রথম অথবা দ্বিতীয় হয়েছি। নাটক, সিনেমায়ও পুরস্কার পেয়েছি। কিন্তু খেলাধুলায় কখনো মেডেল পাইনি।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এখন সেটা সম্ভবও না, আর যদি সম্ভব হতো তাহলে আপনাদের সঙ্গে খেলাধুলায় অংশ নিতাম। আপনাদের মতো মেডেল পেতাম।’
বক্তব্যের শুরুতে তারানা বলেন, ‘যতোদিন তরুণদের হাতে দেশ থাকবে, ততোদিন হারাবে না ডিজিটাল বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’
বিএনপি-জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তারানা বলেন, ‘৯২ দিনের হরতাল-অবরোধে দেশে ব্যাপাক ক্ষতি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার এই ক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’
মঙ্গলবার রাতে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত চলে আজাদ কাপ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের গ্র্যান্ড ফাইনাল, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
প্রসঙ্গত, তারানা হালিমের জন্মস্থান চট্টগ্রামে। ১৯৬৬ সালে ১৬ আগস্ট বাবার কর্মসূত্রে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদস্থ সিজিএস কলোনিতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার ধুপরিয়ায়। বাবা এসএ হালিম প্রথমে আয়কর কমিশনার হিসেবে দীর্ঘদিন চট্টগ্রামে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব হিসেবে চাকরি থেকে অবসর নেন।
তারানা ১৯৭১ সালের পর চট্টগ্রামে আগ্রাবাদস্থ একটি প্রাথমিক স্কুলে অল্প সময় পড়াশুনা করেন। ১৯৮২ সালে রাজধানীর অগ্রণী বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে প্রথম বিভাগে এবং ১৯৮৪ সালে হালিক্রম কলেজ থেকে এইচএসসিতেও প্রথম বিভাগে পাস করে সুনাম অর্জন করেন। এছাড়া ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম সম্পন্ন করে আইন পেশায় নিয়োজিত হন।
নাটক ও মিডিয়া জীবন
মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই প্রখ্যাত নাট্যকার আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘ঘুঘু শিকারী’ নাটকে তারানা হালিম প্রথম শিশুশিল্পী চরিত্রে অভিনয় করেন। ৮০’র দশকের দিকে তিনি বহুল আলোচিত ধারাবাহিক নাটক ‘ঢাকায় থাকি’তে অভিনয়সহ প্রখ্যাত নাট্যকার ও উপন্যাসিক ড. হুমায়ূন আহমেদের ধারাবাহিক নাটক ‘অয়োময়’ এ মদিনা চরিত্রে অভিনয় করে বেশ আলোচিত ও সমাদৃত হন। এরপর তিনি বিটিভির বিভিন্ন সাপ্তাহিক ও ধারাবাহিক নাটকে অভিনয়সহ সাম্প্রতিক সময়ে চ্যানেল আইতে ‘জীবন যেখানে যেমন’ চলমান ঘটনা নিয়ে একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করে চলেছেন।
চলচ্চিত্র জীবন
১৯৭৭ সালে খ্যাতিমান চিত্রপরিচালক নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘সাহেব’ ছবিতে চিত্রনায়ক ফারুকের ছোট বোনের চরিত্রে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে তারানা হালিমের বাংলা চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭৮ সালে প্রখ্যাত চিত্র পরিচালক অভিনেতা ও নির্মাতা আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ছবিতে অভিনয় করেন। ‘সাহেব’ ও ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ছবি দু’টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করতে সক্ষম হয়।
