ইউপি নির্বাচন ২০১৬ঃ পটুয়াখালীতে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছাড়াছড়ি

0

পটুয়াখালী: সারা দেশের মতো পটুয়াখালীতেও দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল প্রতিটি ইউনিয়নে নিজ নিজ দলের প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন। তবে অধিকাংশ ইউনিয়নেই বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র  দাখিল করেছেন।

আগামী ২২ মার্চ প্রথম ধাপে দেশের ৭৫২টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে পটুয়াখালী জেলায় ৫০টি ইউনিয়নেও ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় ৫০টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোট ২৪৩ জন, সংরক্ষিত নারী মেম্বার পদে ৫১০ জন ও মেম্বার পদে ১৬২৬ জন প্রার্থী তাদের মনোনয় পত্র দাখিল করেছেন।

এর মধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে চেয়ারম্যান পদে ৩৭ জন, নারী মেম্বার পদে ৬৫ জন ও মেম্বার পদে ১৯৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

মির্জাগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে চেয়ারম্যান পদে ৩২ জন, সংরক্ষিত নারী মেম্বার পদে ৫৭ জন ও মেম্বার পদে ২০৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

দুমকি উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে চেয়ারম্যান পদে ১৭ জন, সংরক্ষিত নারী মেম্বার পদে ২৬ জন ও মেম্বার পদে ৯০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

গলাচিপা উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে চেয়ারম্যান পদে ৬৬ জন, সংরক্ষিত নারী মেম্বার পদে ১৩১ জন ও মেম্বার পদে ৪৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

দশমিনা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে চেয়ারম্যান পদে ৩৯ জন, সংরক্ষিত নারী মেম্বার পদে ৭০ জন ও মেম্বার পদে ২১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

কলাপাড়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে চেয়ারম্যান পদে ১০ জন, সংরক্ষিত নারী মেম্বার পদে ৪০ জন ও মেম্বার পদে ১২৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

নব গঠিত রাংগাবালি উপজেলার চারটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে চেয়ারম্যান পদে ১৫ জন, সংরক্ষিত নারী মেম্বার পদে ৪৭ জন ও মেম্বার পদে ১৩৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

বাউফল উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে চেয়ারম্যান পদে ৫৯ জন, সংরক্ষিত নারী মেম্বার পদে ১৩১ জন ও মেম্বার পদে ৪০৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

জেলার ৫০টি ইউনিয়নের মধ্যে দশমিনা উপজেলার দশমিনা ইউনিয়নে সব থেকে বেশি সংখ্যক চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ওই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এদিকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বিদ্রোহীদের অধিকাংশই স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী অথবা সমর্থক। আবার এর মধ্যে অনেকই আছেন যারা দলীয় মনোনয়নপত্র চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন।

তবে বিদ্রোহীদের বিষয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এবার কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে দল দুটির জেলা পর্যায়ের নীতি নির্ধারকরা নিশ্চিত করেছেন।

পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য বলা হয়েছে। এরপরেও যারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করবে তাদের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দলের সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হবে।’

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. মজিবুর রহমান টোটন বলেন, ‘বিএনপি তাদের দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে কারো সাথে আপোশ করবে না। যে সব বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত, তার পরেও দল থেকে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে না অথবা প্রার্থী হবে তাদের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.