চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, শিক্ষা খেলাধুলা সংস্কৃতি চর্চায় শিশুদের আগ্রহী করে তুলতে হবে। সংস্কৃতি চর্চায় মনোনিবেশ করাতে পারলে শিশুরা বখাটে ও মাদকাসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। তাই তাদের সংস্কৃতি চর্চায় অনেক বেশি যত্নবান হতে হবে।
শুক্রবার নগরীর মুসলিম হলে সঙ্গীত পরিষদের ৭৭ তম বষপূর্তি উৎসবে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্য বলেন, শিশুদের প্রতি সাম্প্রতিক সময়ে যে অমানবিক আচরণের বার্তা আমরা পাচ্ছি তা সভ্য সমাজে কাম্য নয়। শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। আগামী দিনে রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব বর্তাবে তাদের ওপর। তাই শিশুদের আনন্দময় শৈশবেই বেড়ে ওঠার এবং যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে জন্ম নিয়েছিলেন বলে বাঙালি স্বাধীন অস্তিত্বের ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে। তাই মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার ও গর্ব। ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মার প্রতি আমরা চিরদিন শ্রদ্ধায় মাথানত করে তাদের স্মরণে রাখব। ছাত্র-ছাত্রীরা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্রোহী কবি কজী নজরুল ইসলামের সাংস্কৃতিক ধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে পারবে।
পরিষদের সভাপতি ডা. ছৈয়দুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক বন্দনা দাশ ও বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক এস এম আবুল হোসেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পন্ডিত কিরণময় চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক সৈয়দ মহিউদ্দিন (মহি–আল-ভান্ডারী) ও পরিষদের সাবেক নৃত্য শিক্ষক, নৃত্য শিল্পী ও নৃত্যনাট্য পরিচালক শৈবাল সেন রূপককে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। পরিষদের ২০১৫ সালের বার্ষিক পরীক্ষায় উর্ত্তীণ শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়া কণ্ঠসঙ্গীতে সমাপনী বর্ষে উর্ত্তীণদের মাঝে অধ্যক্ষ সৌরীন্দ্রলাল দাশগুপ্ত স্মৃতি বৃত্তির অর্থ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সম্পাদক তাপস হোড়। বক্তব্য রাখেন রোটারিয়ান মীর নাজমুল আহাসান রবিন। এতে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ বিজয় লক্ষী দেবী, লায়ন এস আর বড়ুয়া ও বিকাশ মজুমদার।

Comments are closed.