নিজস্ব প্রতিনিধি : ফটিকছড়িতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের প্রচার প্রচারনায় বাধা দিচ্ছেন সরকারী দলের লোকজন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থীদের পোস্টার টাঙানোতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় কর্মীদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পোস্টারে আগুন দেওয়া হচ্ছে। প্রচারের গাড়ি ভাংচুর, কর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা, ছুরিকাঘাতের ঘটনায় থানায় মামলা পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।
বুধবার (২০ এপ্রিল) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ সরওয়ার আলমগীর।লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন ফটিকছড়িতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থীদের লোকজন মোটর শোভাযাত্রা সহকারে ‘আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব’ প্রচারণা চালাচ্ছে ।
সরোয়ার আলমগীর বলেন, ইতোমধ্যে কুটকৌশল ও চাপ প্রয়োগ করে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের মাধ্যমে বাগানবাজার, লেলাং, সমিতির হাট ও ধর্মপুর ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সরকার দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ১১টি ইউনিয়নে সাজানো নাটকের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করার চূড়ান্ত আয়োজন পাকাপোক্ত করার হীন প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সরওয়ার আলমগীর অভিযোগ করেন, আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে অনীহা দৃশ্যমান বিধায় নিরপেক্ষ অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমরা যারপরনাই সন্দিহান, আস্থার জায়গাও অবশিষ্ট নেই।
তাঁর অভিযোগ, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর দাঁতমারা ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী ইদ্রিস মিয়ার ইলিয়াছের গণসংযোগে বাধা দিয়েছে সরকার দলীয় প্রার্থীর লোকজন। তারা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ফটিকছড়ি ও ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হলেও দুর্গম এলাকা হওয়ায় অস্ত্রের ঝনঝনানি, হামলা অব্যাহত রয়েছে। তাদের নিরপেক্ষতা ধরে রাখতে পারবেন কিনা আমরা সন্দিহান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মির্জা মোহাম্মদ আকবর, রাউজান পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব কাজী আবদুল্লাহ আল হাসান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন শাহিন, নাসির উদ্দিন, ফটিকছড়ি বিএনপি নেতা রফিকুল আলম, যুবদল আহ্বায়ক সরওয়ার মফিজ, ছাত্রদল নেতা রায়হান রাহী প্রমুখ।

Comments are closed.