৯১’র ২৯ এপ্রিলে ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের স্মরণে সন্দীপনার কর্মসূচী পালিত

চট্টগ্রাম :   ৯১ এর ২৯ এপ্রিলের প্রলয়নকরী ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের স্মরণে সন্দীপনা কেন্দ্রীয় সংসদের সঙ্গীত, নাটক, আবৃত্তি, চারুকলা ও লোককলা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মসূচী দোস্ত বিল্ডিং চত্বর ও সন্দীপনা কার্যালয়ে পালিত হয়েছে। দিনভর কর্মসূচীর মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, খ্যাতিমান ফাটোসাংবাদিক দেব প্রসাদ দেবু’র দুর্লভ মর্মন্তুদ আলোক চিত্রের প্রদর্শনী, দোয়া মাহাফিল ও বিশেষ প্রার্থনা, র‌্যালি, ডিসপ্লে প্রভৃতি। সকাল ১০টায় কর্মসূচীর উদ্বোধন ঘোষণ করেন- সন্দীপনার উপদেষ্টা, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ট্রাস্টি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিতেন্দ্র প্রসাদ নাথ মন্টু। সকাল সাড়ে ১০ টায় সন্দীপনার সিনিয়র সহসভাপতি প্রধান শিক্ষক বাবুল কান্তি দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডীন প্রফেসর ড. গাজী সালেহ উদ্দিন। সম্মানিত অতিথিবৃন্দের মাঝে উপস্থিত ছিলেন- চ.বি অধ্যাপক ড. জিনবোধি ভিক্ষু, সাংবাদিক বেলায়েত হোসেন, সংগঠক আবদুর রহিম, সংগঠক সজল চৌধুরী, রাজনীতিবিদ সুযশময় চৌধুরী, শওকত আলী সেলিম, ইতিহাস গবেষক সোহেল মোঃ ফখরুদ্দীন, প্রণবরাজ বড়ুয়া, প্রধান শিক্ষক বাবুল দাশ, এম.এ. সালাম, ফটোসাংবাদিক দেব প্রসাদ দেবু, আইটি এক্সপার্ট মোঃ ইসমাইল হোসাইন, এমরান হোসেন মিঠু, মোঃ রাশেদ, কবি আসিফ ইকবাল, মোঃ দিদার হোসেন, আজগর আলী, ডা: কাবরী দাশ প্রমুখ। সকাল ৯টায় নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন মৌলানা মোঃ হামিদ নুরী। সকাল ১১টায় খ্যাতিমান আলোকচিত্র শিল্পী দেব প্রসাদ দেবু’র ২৯শে এপ্রিলের উপর ২শতাধিক আলোকচিত্রের প্রদর্শনী উদ্বোধন করা হয়। নাট্যকর্মী মেজবাহ চৌধুরীর সঞ্চালনায় শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সন্দীপনা প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, ভাষ্কর ডি.কে.দাশ (মামুন)।

আলোচনায় বক্তারা বলেন- উপকুলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ও দ্বীপসমূহে আজও পর্যাপ্ত ভেড়িবাঁধ তৈরি না হওয়ার কারণে, উপকূলবর্তী মানব সম্পদ, কৃষি সম্পদ, প্রাকৃতিক সম্পদ মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে যখন সমুদ্রের উপরিতল ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে ততই এই ঝুঁকি ক্রমাগত মানব গোষ্ঠীর শত শত বছরের ইতিহাস ঐতিহ্যকে চিরতরে ধ্বংসের মুখে নিয়ে যেতে চায়। তার উপর বিস্তীর্ণ উপকূলবর্তী এলাকায় হয়নি পর্যাপ্ত বনায়ন। ভেড়িবাঁধ কোথাও কোথাও তৈরি হয়ে থাকলেও জোয়ারের তোড়ে অনেক স্থানে ভেসে গেছে। ফলে প্রায় জোয়ারে ফসলী জমি ভেসে যায় লবনাক্ত পানিতে। পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার তৈরির কথা থাকলেও বিগত কয়েক বছরে নতুন কোন শেল্টার, ইমারত তৈরি হয়নি। এ বিষয়ে সরকার এগিয়ে না এলে উপকুলীয় জনপদে মানবতা বিপন্ন হবে। তাছাড়া ইতিমধ্যে বহু সাইক্লোন শেল্টার প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘুর্ণিঝড়, প্লাবন, লোনাধরা, সমুদ্রস্রোতের কারনে বিনষ্ট হয়ে গেছে। ভগ্নদশায় পর্যবসিত সাইক্লোন শেল্টারগুলো সংস্কার না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উপকুলবর্তী জনসাধারনের মানব সম্পদ, প্রাকৃতিক সম্পদ, মূল্যবান স্থাপনা সমূহ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তাই সমুদ্র রক্ষা ভেড়িবাঁধের ছেড়া অংশের মেরামত, পর্যাপ্ত বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে এই সমস্যা নিরাকরন সম্ভব।

সব শেষে নিহতদের স্মরণে সহস্রদীপ প্রজ্জলনের মধ্য দিয়ে থিয়েটার সন্দীপনার নাট্যকর্মীরা ঘুর্ণিঝড় কিংবা প্লাবন সময়ের উপর বিষয় ভিত্তিক কবিতা পাঠ, সংগীত, আবৃত্তি, কথিকা পাঠ ও ডিসপ্লেতে অংশ নেন- ওস্তাত রতন কুমার রাহা, তাহেরা খাতুন, কবি ফেরদৌসি মুন, রুমানা সুলতানা, শিল্পী দত্ত, তন্বী দাশ, মোঃ আজিম উদ্দিন, বৃষ্টি দাশ, শিবলু দাশ, উজ্জ্বল কুমার সিংহ, নাট্যকর্মী হাসান মুরাদ, নাজমুল আবেদীন অভি, অনিত কুমার নাথ, এমরান হোসেন মিঠু।

২৯ এপ্রিলের প্রলয়ঙ্করী ঘুর্ণিঝড়ে নিহতদের স্মরণে সন্দীপনা মহেশখালী শাখা হোয়ানক টাইম বাজার প্রাঙ্গনে, সন্দীপনা নোয়াখালী শাখা চৌমুহনী সংগঠন কার্যালয়ে ও সন্দীপনা কুতুবদিয়া শাখা বড়ঘোপ বিদ্যুৎমার্কেট সংলগ্ন মাঠে গণ সচেতনামূলক আলোচনা, মুনাজাত ও বিশেষ প্রার্থনা ও দুর্যোগকালীন সংকট মোকাবেলায় মহড়াসহ ব্যাপক কর্মসূচী পালন করে।

এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.