গোলাম সরওয়ার , চট্টগ্রাম : ব্যালট বাক্স ছিনতাই,জালভোট প্রদান, হামলা পাল্টা হামলার মধ্যে দিয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের নিবার্চন সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও সংঘর্ষের অভিযোগে ৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন স্থগিত করা হয়। শনিবার সকাল আটটা থেকে ১৪টি ইউনিয়নের শুরু হয় নিবার্চন। সকাল থেকে ১৪টি ইউনিয়নের গুরে দেখা যায়, সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহন শুরুর প্রথম দিকে শান্তি পূর্ণ ভাবে চলে আসলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই,বিএনপি ও আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে দিয়ে বিকেল ৪টায় নিবার্চন সম্পন্ন হয়।
সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ব্যালটে সীল মারা নিয়ে ধলই এনায়েত পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উভয় পক্ষের কর্মী সর্মথকদের মধ্যে সংর্ঘষ বাধে এসময় চার রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয় এবং পুলিশ সদস্যসহ তিন জন আহত হয়। এর পরপরই ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহন স্থগিত করেন দায়িত্বরত রিটানিং অফিসার। ১১ টা ১৫ মিনিটে সোনায় সরকারি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় আওয়ামীলীগ সমর্থীত চেয়ারম্যান প্রাথীর লোকজন ভোটারদের কেন্দ্রে থেকে বের করে দিয়ে ব্যালটে সীল দিচ্ছেন। এছাড়াও মেখল, গড়দুয়ারা, নাঙ্গলমোড়া ও ধলইয়ের আরও কয়েকটি কেন্দ্রে বিএনপির ও আওয়ামীলীগ সমর্তীথ চেয়ারম্যান প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে সংর্ঘষ হয়।
এদিকে হাটহাজারী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে কেন্দ্র অনিয়ম এবং কেন্দ্রে দখলের অভিযোগ এনে ভোটগ্রহণ বাতিল করে ওই সব কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিএনপি প্রার্থীরা। চারটি ইউনিয়ন হলো মেখল, গড়দুয়ারা, নাঙ্গলমোড়া ও ধলই। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফছানা বিলকিস উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, কয়েকটি কেন্দ্রে মেম্বর প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে অপ্রকর ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে থেকে বের করে দেওয়া,ভোট প্রদানে বাধা ও এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে বলে বিএনপি প্রার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে বহিরাগতদের প্রবেশের বিষয়টি স্বীকার করে জেলা প্রশাসক বলেন, এমনিতে হাটহাজারীর রাজনিতিক পরিস্থিত ভালো। তবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। শহরের সঙ্গে হাটহাজারি লাগানো হওয়াতে কেন্দ্রগুলোতে বহিরাগতদের প্রভাব ছিল। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে আমাদেরও বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার জন্য ৮জন ম্যাজিস্ট্রট কাজ করেছে। মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রণিকে আটকের বিষয়ে তিনি বলেন, রণির কাছে যে অস্ত্রটি পাওয়া গেছে তা বৈধ না অবৈধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি অস্ত্রটি বৈধ হয় তবে তার লাইসেন্স বাতিল করা হবে। ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছাড়া অন্য কেউ অস্ত্র বহন করতে পারে না। সেদিক থেকে অস্ত্র প্রদর্শনের অপরাধে ফৌজদারি আইনে পুলিশ তার বিরদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। হাটহাজারী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২৮টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন করা হয়। এর মধ্যে ৫টি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়।

Comments are closed.