মিসরীয় বিমানের ৬৬ আরোহীর মৃত্যু, নেপথ্যে সন্ত্রাসী হামলা!

কায়রো: মিসরের একটি বিমান প্যারিস থেকে কায়রো যাওয়ার পথে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিমানে থাকা ৬৬ আরোহীর সবাই মারা গেছেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে মিসর বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা দেখতে পাচ্ছে। গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কছে বিমানের কিছু ধ্বংসাবশেষ দেখতে পেয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। খবর বিবিসির

মিসরের বিমানটি ধসে পড়ার আগে আকাশে দুইবার চক্কর খেয়েছিল বলে জানিয়েছেন গ্রিসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পানোস কামেনোস। তিনি বলছেন, এয়ারবাস এ৩২০ বিমানটি রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবার আগে ৯০ ডিগ্রি বামে, আর ৩৬০ ডিগ্রি বামে ঘুরে দুইবার চক্কর বা ডিগবাজি খায়। এরপরে বিমানটি বিশ হাজার ফিট ওপর থেকে ভূমধ্যসাগরে খসে পড়ে।

গ্রিসের কার্পাথোস দ্বীপের কাছে বড় ধরনের তল্লাশি অভিযানের প্রস্তুতি চলছে। গ্রিসে আর মিসরের সেনাবাহিনী এই তল্লাশিতে অংশ নিচ্ছে। বিমান আর জাহাজ পাঠাচ্ছে ফ্রান্সও।

মিসরের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী শেরিফ ফাথাই বলেছেন, আমি এখনি নিশ্চিত করে কিছু বলবো না, তবে আপনারা যদি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন, তাতে এই ঘটনার পেছনে সন্ত্রাসী হামলা বা এ ধরনের সম্ভাবনাই বেশি।

বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, কায়রো সময় রাত আড়াইটায় মিসরের আকাশসীমায় প্রবেশের আগমুহূর্তে তাদের এয়ারবাস এ৩২০ বিমানটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিমানটিতে তিনটি শিশুসহ ৬৬ জন যাত্রী ছিলেন। এ ছাড়া সাতজন ক্রু ও তিনজন নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন।

যাত্রীদের মধ্যে ৩০ জন মিসরের, ১৫ জন ফ্রান্সের ও দুজন ইরাকি ছাড়াও ব্রিটেন, কানাডা, বেলজিয়াম, কুয়েত, সৌদি আরব, আলজেরিয়া, সুদান, চাদ ও পর্তুগালের নাগরিক রয়েছেন। এমএস ৮০৪ বিমানটি যখন পূর্ব ভূমধ্যসাগরের ৩৭ হাজার ফুট ওপর দিয়ে যাচ্ছিলো।

কর্মকর্তারা জানান, কায়রো সময় ২টা ৪৫ মিনিটে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় ওই উড়োজাহাজটি মিসরের আকাশসীমা থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে আকাশে উড়ছিলো।

বিশ্বজুড়ে যাত্রিবাহী বিমানগুলোর গতিপথ পর্যবেক্ষণ করে এমন একটি ওয়েবসাইট জানিয়েছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বিমানটি ছিল এয়ারবাস এ৩২০ বিমান। প্যারিস সময় রাত ১১টায় ছেড়ে আসা বিমানটি রাত সোয়া তিনটায় কায়রো পৌঁছানোর কথা ছিল। -সংবাদমাধ্যম

এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.