শিক্ষক ও ঈমামগণ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ’র কুফল সম্পর্কে সকলকেই উদ্বুদ্ধ করতে পারেন – আ জ ম নাছির

চট্টগ্রাম :  চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত ৩৫০টি ফোরকানিয়া মাদ্রাসার শিক্ষকদের সাথে ২ জুন ২০১৬ খ্রি. বৃহস্পতিবার মতবিনিময় করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন। নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সকালে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও চসিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাজমুল হক ডিউক।

এতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম, চসিক ফোরকানিয়া মাদ্রাসার পরিদর্শক মাওলানা মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ চৌধুরী, মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব হাকীম মাওলানা মোবারক আলী হেজাজী, উপদেষ্টা আলহাজ্ব হাফেজ মোহাম্মদ আমান উল্লাহ, অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ আলী, দপ্তর সম্পাদক হাফেজ মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন। মতবিনিময় সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলোয়াত করেন মোহাম্মদ কাইছার, নাতে রাসুল পেশ করেন মোহাম্মদ তাওসিফ রেজা। মতবিনিময় সভায় চসিক মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ মেয়র ও অতিথিদের ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন চসিক ফোরকানিয়া মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষকদের মাসিক সম্মানী জুলাই ২০১৬ খ্রি. থেকে ১ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার টাকায় উন্নিত করার ঘোষনা দেন। তিনি বলেন, শিশু বয়স থেকে প্রত্যেক মুসলিম পরিবারের সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষা ও পবিত্র কোরআন শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। শিক্ষকদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে কোরআন শিক্ষা গ্রহণে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। মেয়র বলেন, আল্লাহর পবিত্র কোরআন ও নবীজীর পবিত্র হাদিস ধারন করার শিক্ষায় শিক্ষিত হলে কোন মুমিন মুসলমান বিপদ গামী হতে পারেনা।

জনাব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, শিক্ষক, খতিব ও ঈমামগণ সমাজের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদার অধিকারী। তাদের কথাবার্তা ও বয়ানের উপর সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা থাকে। সে দৃষ্টিকোন থেকে শিক্ষক ও ঈমামগণ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ এর কুফল সম্পর্কে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের সহজেই উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। প্রসঙ্গক্রমে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম ভৌগলিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়, নদ-নদী, সাগর ও সমতল ভূমির নৈসর্গিক সৌন্দর্যের চট্টগ্রাম। এ চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের আধুনিক নগরীতে পরিনত করতে ক্লিন ও গ্রিন সিটির ভিশন উপস্থাপন করা হয়েছে। মেয়র তার আশা ও প্রত্যাশা বাস্তবায়নে ঈমাম ও ধর্মীয় শিক্ষকদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সাধারণ নাগরিকগণ যত্রযত্র, যেখানে সেখানে, যখন-তখন ময়লা আবর্জনা ফেলার বদঅভ্যাস থেকে বিরত রাখার জন্য মুসল্লীদের নিকট প্রতিদিন প্রতি ওয়াক্তের নামাজের আগে বা পরে এবং জুম্মার নামাজের খুৎবার পূর্বে আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষরোপন, বাগান করা সহ নানামুখী বিষয়ে বয়ান করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

ফলে নগরীর পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত হবে এবং মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করতে সক্ষম হবে। মেয়র বলেন, খাল ও নালায়, যত্রতত্র, যখন তখন, যেখানে সেখানে আবর্জনা ফেলার বদঅভ্যাস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ১ আগষ্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪১টি ওয়ার্ডে ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম ব্যয় বহুল ও কষ্টসাধ্য হলেও প্রতি বছর অতিরিক্ত ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। জনাব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ২০১৭ সনের ডিসেম্বরের মধ্যে সবুজ নগরী গড়ে তোলা হবে এবং ৩ বছর সময়ের মধ্যে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে এলইডি বাতি সহ সকল সড়ক ও বাইলেইন শতভাগ পাকা ও পিচঢালাই করা হবে। পবিত্র রমজানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে অধিক মোনাফা লোভীদের বিপক্ষে পবিত্র ইসলামের বাণী উপস্থাপনের জন্য মেয়র ধর্মীয় শিক্ষক ও ঈমামদের আহ্বান জানান।

এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.