হামলাকারীদের শেকড় বের করব : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গুলাশানের রেস্টুরেন্টে যে সন্ত্রাসীরা হামলা করে এই হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তাদের ‘শেকড়’ খুঁজে বের করা হবে। আজ (৩ জুন) রোববার গণভবনে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সেইজি কিহারার সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাদের শেকড় খুঁজে বের করা হবে। তাদের কারা অস্ত্র-বিস্ফোরক সরবরাহ করছে তাও খুঁজে বের করা হবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী- উভয়েই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার কথা বলেছেন।

গুলশানে হামলার ঘটনায় ‘যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ায়’ জাপানের প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলেও প্রেস সচিব জানান।

সন্ত্রাসী হামলায় নিহত জাপানিদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে হস্তান্তর করা হবে বলেও দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে জানান শেখ হাসিনা। সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতের ঘটনায় জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃতদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নিহত জাপানি সাত নাগরিক হলেন, তানাকা হিরোশি, ওগাসাওয়ারা, শাকাই ইউকু, কুরুসাকি নুবুহিরি, ওকামুরা মাকাতো, শিমুধুইরা রুই ও হাশিমাতো হিদেইকো। তাদের মধ্যে ছয়জন মেট্রোরেল প্রকল্পের সমীক্ষা কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে ওই ক্যাফেতে ছিলেন আরও একজন, যাকে পরে উদ্ধার করা হয়।

এর আগে রাতে রেস্তোরাঁয় হামলার পরপরই সেখানে আটকেপড়াদের উদ্ধারে গিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ওসি সালাউদ্দীন হামলাকারীদের বোমার স্প্লিন্টারে নিহত হন।

গত শুক্রবার রাতে গুলশান ২ নম্বরের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় একদল অস্ত্রধারী জঙ্গি, জিম্মি হন দেশি বিদেশি অন্তত ৩৩ জন। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর কমান্ডো অভিযান চালিয়ে ওই রেস্তোরাঁর নিয়ন্ত্রণ নেয় সশস্ত্রবাহিনী। ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ২০ জনের লাশ পাওয়া যায় জবাই করা অবস্থায়। নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালির, সাতজন জাপানি ও একজন ভারতের নাগরিক। বাকি তিনজন বাংলাদেশি, যাদের মধ্যে একজনের যুক্তরাষ্ট্রেরও নাগরিকত্ব ছিল।

এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.