লাইফস্টাইল : ক্যান্সারে নতুন নতুন চিকিত্সা আবিষ্কার হয়েছে। কিছু ক্যান্সার চিকিত্সায় পুরোপুরি ভাল হয়। কিন্তু ক্যান্সার একটি পরিবারকে নিঃস্ব করে দিতে পারে পুরোপুরিভাবে। মানসিক এবং আর্থিকভাবে পরিবারটি বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। সব ক্যান্সারের পরিনতিও ভাল নয়। ক্যান্সার প্রতিরোধ করা খুব যে কঠিন তা নয়। তবে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে যা পালন করা অনেক কঠিন। ক্যান্সার যাতে না হয় সে চেষ্টাই সবার করা উচিত কারণ একবার হয়ে গেলে সমস্যার অন্ত থাকেনা।
কিছু উপায় নিম্নে আলোচনা করা হলো-
১. তামাক বর্জন : ধূমপান একেবারেই করা ঠিক নয়। ধূমপানের ফলে ফুসফুসে, প্রস্রাবের থলিতে এবং কিডনিতে ক্যান্সার দেখা দেয়। মুখের ক্যান্সার এবং প্যানক্রিয়াসের ক্যান্সারের সাথেও ধূমপান সম্পর্কিত। গুল, জর্দা, তামাক পাতাসহ সব ধরণের তামাক জাতীয় দ্রব্য বর্জন করা উচিত। এগুলো ক্যান্সার তৈরি করে।
২. স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের অভ্যাস করা : স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। প্রচুর পরিমাণে শাক সবজি এবং ফলমূল খাওয়া উচিত। আঁশ জাতীয় খাবার বেশী খাওয়া উচিত। চর্বি জাতীয় খাবার প্রচুর খাওয়া ঠিক নয়। লাল মাংস যেমন গরু ও খাসীর মাংস বর্জন করলে খুব ভালো হয়। মদপান করা উচিত নয়। মদপানের ফলে নানারকম ক্যান্সার হতে পারে।
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে : ওজন বৃদ্ধির সাথে অনেক ক্যান্সার সম্পর্কিত। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। শারীরিক পরিশ্রম বেশী করা উচিত। ব্যায়াম করলে স্তন এবং কোলন ক্যান্সার কম হয়। ব্যায়াম করলে ওজনও কমে। প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা উচিত।
৪. সূর্যালোকের হাত থেকে দূরে থাকা উচিত : দিনের মধ্যভাগের সূর্যের আলো ও তাপ থেকে দূরে থাকা উচিত। ছায়াযুক্ত স্থানে বেশী সময় থাকা ভাল। এর জন্য ছাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। সানক্রিম ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। শরীরের বেশীর ভাগ অংশ আবৃত করে বাইরে যাওয়া উচিত।
৫.ভ্যাকসিন গ্রহণ করা : হেপাটাইটিস বি-এর ভ্যাকসিন সর্বত্র পাওয়া যায় এবং সহজলভ্য। এটি লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। মহিলাদের জরায়ুর সার্ভিক্সের ক্যান্সার অনেক হয়। এর জন্য হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস দায়ী। বর্তমানে এর ভ্যাক্সিন পাওয়া যাচ্ছে।
৬. ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে বিরত থাকা : নিরাপদ যৌনমিলন করা উচিত। যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে হেপাটাইটিস, এইডস ছড়ায়। দীর্ঘমেয়াদী হেপাটাইটিস থেকে লিভার সিরোসিস এবং পরবর্তীতে ক্যান্সার হয়। যাদের এইডস থাকে তাদের ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ইনজেকশনের সিরিঞ্জ ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব সাবধান হতে হবে। হেপাটাইটিস, এইডসসহ বহু অসুখ সিরিঞ্জের মাধ্যমে ছড়াতে পারে যেখান থেকে ক্যান্সার হতে পারে।
৭. নিয়মিত চেক আপ : আমরা সহজে ডাক্তারের কাছে যেতে চাইনা। একদম শেষ পর্যায়ে যাই। এটি ঠিক নয়। প্রতিবছর অন্তত: একবার সারা শরীর চেক করা উচিত। কারণ আগে ভাগে ধরা পড়লে পরিনতি ভাল হয়। ভোগান্তি কম হয়। চিকিত্সা সহজ হয়। সবাই সচেতন হলে ক্যান্সারের হার অনেক কমানো সম্ভব। সবার একটু সচেতনতাই অনেক ভাল থাকা সম্ভব। আশা করি সবাই সচেতন হবে এবং উপরোক্ত নিয়মগুলো মেনে চলবে।

Comments are closed.