মোঃ সাইফুল, রাঙামাটি : পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন সংশোধনের প্রতিবাদে এবং সংশোধনীতে গৃহীত বিতর্কিত ধারাসমূহ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচির পালন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঁচটি বাঙালী সংগঠন। পার্বত্য গণ পরিষদ, পার্বত্য নাগরিক পরিষদ, পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ, পার্বত্য বাঙালী ছাত্র ঐক্য পরিষদ, পার্বত্য গণ শ্রমিক পরিষদ যৌথভাবে এই কর্মসূচি পালন করে।
আজ (৮ আগষ্ট) সোমবার সকালে রাঙামাটি পৌরসভা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে মানববন্ধনে মিলিত হয়।
পার্বত্য নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নূর জাহান বেগমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন বাঙালী ছাত্র ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মোঃ সোহেল রিগান, পার্বত্য গণ শ্রমিক পরিষদের জেলা আহ্বায়ক মোঃ রাসেল ইসলাম সাগর, পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের রাঙামাটি জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম সুজন, লংগদুর উপজেলা ছাত্র পরিষদের ছাত্রনেতা মোঃ কাইয়ুম।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত ভূমি কমিশন আইন একটি কালো আইন। এই আইনে যেকোন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোন আপিল করা যাবে না। ঐ কমিশনের সদস্যদের মধ্যে পার্বত্য বাঙালিদের কোনও প্রতিনিধি ছিলো না ফলে তারা নিজেদের মত করে এই আইন সংশোধন করেছেন। কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব পদে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবং বাকী সদস্যরা উপজাতীয় সদস্য হতে নিয়োগ দেওয়া হবে। বাঙালিদের কোনও প্রতিনিধি না থাকাতে পার্বত্য চট্টগ্রামের ৪৮% বাঙালি জনগণের জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে না, বাঙালিরা তাদের ভূমির অধিকার হারাবে। পার্বত্য বাঙালিরা এই আইনকে কখনই মেনে নেবে না। এই আইন বাস্তবায়ন হলে পাহড়ে কোন বাঙালী থাকতে পারবে না এবং এই অঞ্চলকে এটি আলাদা রাষ্ট্র তৈরি করার অপচেষ্ঠা করা হবে বলেও বক্তারা বলেন।
“বুকের রক্ত দিয়ে এই আইন প্রতিহত করা হবে” এমন মন্তব্য করে বক্তারা বলেন, এই আইন দ্বারা বাঙালীদের অধিকার ভঙ্গ করা হবে। বাঙালীদেরকে তাদের অর্জিত রাষ্ট্রে শরনাথী করে পূর্ণবাসন করার মত রাখা হবে। তাই এই আইন অতিদ্রুত বাতিল করার জন্য দাবি জানান বক্তারা।
মানববন্ধন থেকে আগামী ১০ আগস্ট তিন পার্বত্য জেলায় সর্বাত্মক হরতাল পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। একই সাথে এই আইনের সংশোধনী বাতিল না করলে আরো কঠোর ও কঠিন কর্মসূচির হুশিয়ারি দেয়া হয়।
