অনলাইন ডেক্স : ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে মঙ্গলবার আকাশবাণী বাংলা রেডিও স্টেশন ‘মৈত্রী’ চালু করতে যাচ্ছে ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা ‘প্রসারভারতী’।
কলকাতার রাজভবনে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় এই রেডিও স্টেশনের উদ্বোধন করবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।
প্রসার ভারতীয় সূত্রে জানা গেছে, এই রেডিও স্টেশনে সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে। স্টেশনটি শোনা যাবে ৫৯৪ কিলোহার্টজে। প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা পরিষেবা দেবে আকাশবাণী মৈত্রী। পুরো বাংলাদেশকে এর আওতায় আনতে কলকাতার কাছেই চুঁচুড়াতে ১০০০ এলভি ডিআরএম ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সমিটার প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। পড়াশোনা থেকে রান্না, পর্যটন— সব রকমের অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে এখানে। বাংলাদেশে যারা উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ যেতে চান তার খবরাখবর থাকবে। থাকছে সংবাদ প্রবাহ, ক্যাম্পাসে আড্ডা, বইপাড়ার খবর, ষোলো আনা বাঙালি, একমাটি এক সুর নামের বিভিন্ন অনুষ্ঠান।
অল ইন্ডিয়া রেডিও (এআইআর) বা আকাশবাণীর মহাপরিচালক ফৈয়াজ শেহরিয়ার জানান, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যে ভিশন নিয়েছেন, নতুন এই উদ্যোগের ফলে সেই লক্ষ্যে পৌঁছনো যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই আকাশবাণীতে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান চালু ছিল। ২০১০ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৩ সালে ফের ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় রেডিও সম্প্রচার চালু করার বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
এরপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে এ বিষয়ে দুদেশের মধ্যে একটি চুক্তিও সম্পাদিত হয়।
দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রেডিওর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ২০১৩ সালের একটি ঘটনায় ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের খবরাখবর শোনার জন্য তখন এআইআর এবং স্বাধীন বাংলা বেতারই ছিল একমাত্র ভরসা।
সে সময় প্রণব মুখোপাধ্যায় আরও বলেছিলেন, ‘যুদ্ধের সময়কালে এই বুলেটিনগুলোর ওপর আমাদের ভারতের মানুষ বেশি করে নজর রাখত কারণ ভারতবাসীর সমস্ত হৃদয় ও মন বাংলাদেশবাসীর সঙ্গে ছিল। সে সময় অসংখ্য গৃহহীন মানুষ সীমান্ত পার করে বাংলাদেশ থেকে ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে আশ্রয়ের খোঁজে আসতে শুরু করলো। আর তাদের দুঃখে ভারতবাসীও ব্যথিত হয়েছিল।’
উল্লেখ্য, ১৯৩০ সালে পথচলা শুরু হয় ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’র। পরে ১৯৫৬ সাল থেকে আকাশবাণী নামে পরিচিত হতে থাকে। ভারতের এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বৃহৎ রেডিও নেটওয়ার্কের একটি। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর সারা দেশে এআইআর’এর ছয়টি স্টেশন ছিল, যার অন্যতম ছিল কলকাতা।
