জঙ্গিবাদ ও অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন আলোচনা চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবীর

0

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদ, চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস প্রতিরোধ ও অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন গুরুত্ব শীর্ষক আলোচনা সভা গতকাল ২৩ আগস্ট বিকালে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

এড. পরিমল চন্দ্র বসাকের সভাপতিত্বে সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যথাক্রমে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর প্রাক্তন মহাপরিচালক কামাল লোহানী, আন্তর্জাতিক মানবতা বিরোধী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এড. রানা দাশ গুপ্ত, মানবাধিকার কর্মী কুশী কবির, ব্লাষ্টের অনারারী পরিচালক ব্যারিষ্টার শারা হোসেন, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. তবারেক হোসেন, মানবাধিকার সংগঠক সামশুল হুদা, অর্পিত সম্পত্তি আন্দোলন কমিটির সাধারণ সম্পাদক এড. সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য এ্যারোমা দত্ত, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. কফিল উদ্দিন চৌধুরী। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক এড. অনুপম চক্রবর্তী। এড. কানুরাম শর্মার সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন এড. তুষার সিংহ হাজারী, এড. দুলাল চন্দ্র দেবনাথ।

সভায় কামাল লোহানী বলেন, ১৯৬৫ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অর্ধ শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও আইনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা। মুক্তিযুদ্ধের সরকার ক্ষমতায় আসার পরও একই লড়াই করতে হচ্ছে বলে তিনি দাবী করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম জয় বাংলা পত্রিকায় সম্পত্তি দখলকারীরা ছেড়ে দেয়ার একটি সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশ উল্টো দিকে চলতে লাগল, সংবিধান বিনষ্ট হয়ে গেল। জনগণই রাষ্ট্রের মালিক সে বাক্যটিকে পরিবর্তন করে সামরিক বাহিনীর লোক হয়ে গেল রাষ্ট্রের অধিকারী। দেশে যে ইতিহাস রচিত হয়েছে সাম্প্রদায়িক ও সন্ত্রাসবাদের চুড়ান্ত রূপ হচ্ছে আজকের জঙ্গিবাদ তথা সন্ত্রাসবাদ। প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কিছু লোক থাকলেও তারা কখনো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল না।

ফলে এ আইন বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বর্তমান আইনমন্ত্রী অর্পিত সম্পত্তির রায়ের বিরুদ্ধে রিট করার সুযোগ করে দেয়ায় তিনি তার সমালোচনা করে বলেন, একজন বিজ্ঞ আইনজীবী হয়েও এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেয়া কোন ধরনের সমীচীন হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। ১৯৭১ সালে একজন মুক্তিযোদ্ধা সেদিন বলেছিলেন, ওরা মানুষ হত্যা করছে, আমরা সে মানুষ হত্যাকারী পশুদের হত্যা করব। আজকেও সে জঙ্গিবাদীরা মানুষ হত্যা করে চলেছে। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে সে পশুদের দমন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এখন আমাদের সাথে কেউ নেই।

তবুও সবাইকে নিয়ে একত্রে এগিয়ে যেতে হবে। এসব প্রতিরোধে সরকারকে সহযোগিতার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যাবর্তন আইন বাস্তবায়ন করার গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ইজ্জত গেছে, প্রাণ দিয়েছি, নয়ন জলে ভাসতে দেখি, জমি দখল করে নিয়ে যাচ্ছে অনেকেই মসজিদ-মাদরাসার নামে। মানুষের স্বরূপ, জাগ্রত, সজাগ করার সময় এসেছে সমাজকে।

তিনি আরো বলেন, সাম্প্রদায়িকতার বিবাদ স্বরূপ জঙ্গিবাদ। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার পর সাড়ে চার দশক অতিক্রান্ত হতে না হতে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদীরা গত ১ জুলাই ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজানে, ৪ জুলাই শোলাকিয়া, কিশোরগঞ্জের ঈদগাহে হামলা করে যে সন্ত্রাস বা মানুষ হত্যার পরিকল্পনা করেছে তার জন্য দল-মত সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

১৯৬৫ সালে শাসকগোষ্ঠী শত্রু সম্পত্তি আইন ঘোষণা করে, ১৯৭৪ সালে তা বাতিল করার পরও একটি শ্বার্থন্বেষী মহল রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক সুবিধা, সামাজিক সুযোগ, স্বচ্ছতার সুরক্ষা নিশ্চতয়তা অগ্রাহ্য করে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর এ নির্মম মানবতা বিরোধী অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.