সিটিনিউজবিডি : গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ডেসটিনির বিরুদ্ধে দায়ের করা দুই মামলায় ব্যাবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমিনসহ ৫১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র দাখিলের সোয়া দুই বছর পরে এ মামলা দুটির বিচার শুরু হল।
বুধবার ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। একইসঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামি ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।
এর আগে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনালে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
শুনানির সময় মামলা দুটিতে জামিনে থাকা একমাত্র আসামি প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশিদ আদালতে হাজির ছিলেন।
কারাগারে থাকা পাঁচ আসামি- প্রতিষ্ঠানটির ব্যাবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রফিকুল আমীন, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, পরিচালক লে. কর্নেল (অব.) মো. দিদারুল আলম, মোঃ জিয়াউল হক মোল্লা ও সাঈদুল ইসলাম খান রুবেলকে আদালতে হাজির করা হয়। বাকি ৪৫ আসামি পলাতক আছেন।
রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের বিশেষ পিপি মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, মামলাটি বিচারের জন্য ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১২ বছরের সাজা ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
উল্লেখ্য, গ্রাহকদের চার হাজার ১১৯ কোটি ২৪ লাখ এক হাজার ১৮২ টাকা আত্মসাৎ করে পাচারের অভিযোগে ডেসটিনির ৫১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ৪ মে দুদকের উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রফিকুল আমীনসহ ৫১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এতে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সোসাইটির বোর্ড সভায় অনুমতি না নিয়ে সদস্যদের অগোচরে প্রলোভন দেখিয়ে এমএলএম ব্যবসার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি (ডিএমসিএস) লিমিটেড এবং ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন লিমিটেড (ডিটিপিএল) গ্রুপের পরিচালকরা বিভিন্ন প্যাকেজের শেয়ার দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
ডেসটিনির পরিচালকরা ওই সব অর্থ ৩২টি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের নামে নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেছেন যা আইনের পরিপন্থী।
২০১২ সালের ৩১ জুলাই দুদকের পক্ষ থেকে রাজধানীর কলাবাগান থানায় করা মামলায় ১২ জনকে আসামি করা হয়। তদন্তে আরও সাতজনের নাম আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। মামলায় দুই হাজার ২৫৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ২২৭ টাকা পাচারের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
একই দিনে রাজধানীর কলাবাগান থানায় করা দ্বিতীয় মামলায় ২২ জনকে আসামি করা হয়। পরে তদন্তে আরও ২৪ জনের নাম আসামির তালিকায় যুক্ত করে মোট ৪৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়।
এ মামলায় এক হাজার ৮৬১ কোটি ৪৫ লাখ ২৩ হাজার ৯৫৫ টাকা পাচারের অভিযোগে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
মামলা দায়েরের পরপরই এমডি রফিকুল আমীনসহ কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করা হলেও পলাতক ৪৬ জনকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে গত বছর ২১ জুন অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
