সিটিনিউজবিডি : বিদ্যুৎ, ক্যান্টিনে খাবারসহ নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিরসনের দাবিতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(পাবিপ্রবি) আবাসিক ছাত্ররা ভাংচুর ও তিন গাড়িতে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করেছে।
শুক্রবার মধ্যরাতে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা কয়েকটি ভবনে ব্যাপক ভাংচুর ও ৩টি বাসে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনার পর শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি বিকাল ৫টার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পাবনা সদর থানায় একটি মামলা ও ঘটনাটি তদন্তের জন্য ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আওয়াল কবির জয় জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্ররা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে এবং প্রশাসনিক ভবন, মেডিকেল সেন্টার, পোস্ট অফিসসহ বিভিন্ন ভবনের দরজা জানালা ভাংচুর করে। এসময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স, একটি মিনিবাস ও একটি পিকআপ ভ্যান আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে।
খবর পেয়ে পাবনা থানার পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড টেলিকম কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামকে আহবায়ক ও প্রক্টর আওয়াল কবির জয়কে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এ ব্যাপারে পাবনা সদর থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের হলে বিদ্যুৎ সমস্যা, হলের ক্যান্টিনে খাবারের অব্যবস্থাপনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অফিস ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় তারা অভিভাবকহীন।
এদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য প্রফেসর ড. আল নকীব চৌধুরীর সভাপতিত্বে সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১২টায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সভা চলছিল।
এ ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
