চমেক হাসপাতালে রক্ত চোরদের সিন্ডিকেট

0

দিলীপ তালুকদার : চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে চলছে রক্ত চুরির হরিলুট।ব্লাড ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় রক্ত সংগ্রহ করে রাখলেও চমেকের রোগীরা অনেক ঝক্কি ঝামেলার পরে ১০গুন বেশী দাম দিয়ে এ রক্ত পায়।তাও বাইর থেকে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, চমেকের ব্লাড ব্যাকের রক্ত শতকরা ৫ ভাগ রোগীরা সরাসরি পায়।বাকি ৯৫ ভাগ রক্ত চলে যায় দালালদের হাতে।তারা উচ্চ মূল্যে এ রক্ত কিনতে রোগীর সজনদের বাধ্য করে।একাজে জড়িত রয়েছে কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

জানা গেছে,চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কে ঘিরে মেডিকেলের জনৈক ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী বাদল ১৫ সদস্যে এক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে।এ সিন্ডিকেটের বাইরে কোন ধরনের রক্ত বেচা কেনা চলে না।চমেকের ব্লাড ব্যাংকও এক প্রকার জিম্মি এ সিন্ডিকেটের কাছে।তবে অন্য একটি সূত্র জানায়,ব্লাড ব্যাংকের কর্তারাও পায় মোটা অংকের কমিশন।যার কারনে এ সিন্ডিকেটের প্রধান বাদল র্যা বের হাতে ধরা পড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তাদের নির্লিপ্ততার কারনে সহজে বেরিয়ে এসে আবার ও দোর্দন্ড প্রতাপে ব্লাড সিন্ডিকেটের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছে।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়,নগরীতে ব্লাড ব্যাংক করার জন্য মাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন রয়েছে।কিন্তু কোন ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধ উপায়ে ব্লাড ব্যাংকের ব্যবসা করছে অন্তত ১২ থেকে ১৫টি প্রতিষ্ঠান।আর এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের অবৈধ ব্লাড ব্যাংকে ব্লাড জোগান দিচ্ছে চমেকের ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী বাদল দাশের নেতৃত্বে গড়ে উঠা বাদল সিন্ডিকেট। জানা গেছে,সম্প্রতি চমেক থেকে ব্লাড চুরির সময় র্যা বের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে।চমেক কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততার কারনে বাদল অল্প দিনের মধ্যে বেরিয়ে এসে আরো বেপরোয়া হয়ে্ উঠে ।
জানা যায়,চমেকে দৈনিক প্রায় শতাধিক ব্যাগ ব্লাডের প্রয়োজন হয়্।আর এ ব্লাড সংগ্রহ করার জন্য রোগীর সজনরা প্রথমেই চমেকের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগে ছুটে যায়।সেখানে রোগীর সজনরা ব্লাড না পেয়ে ফিরে যাবার পথেই পড়ে যায়

সিন্ডিকেটের দালালদের খপ্পরে।নেগেটিভ-পজেটিভ যে গ্রুপের রক্তই প্রয়োজন তাৎক্ষনিকভাবে তা সরবরাহের নিশ্চয়তা দিয়ে তাদেরকে বাগে নিয়ে আসে।পরে দরদাম ঠিক করে স্বল্প সময়ের মধ্যে ব্লাড সরবরাহ করে দেয়।পজিটিভ ব্লাড ৩ হাজার এবং নেগেটিভ ব্লাড ৭ হাজার টাকায় প্রতি ব্যাগ বিক্রয় করে।দরদাম ঠিক করে ব্লাড গ্রাহকদের নিয়ে যায় তাদের নির্দিষ্ট ব্লাড ব্যাংকে।কাঙ্খিত ব্লাড পাওয়া না গেলে তাৎক্ষনিক ডাক পড়ে পেশাদার রক্ত দাতাদের।তাদের থেকে রক্ত নিয়ে গ্রাহকের প্রয়োজন মেটানো হয়।
সূত্র জানায়,এ রক্ত বেচার টাকা ৩ ভাগে ভাগ হয়।এক ভাগ দালাল সিন্ডিকেট,এক ভাগ সংশ্লিষ্ট ব্লাড ব্যাংক আর এক ভাগ ব্লাড ব্যাংকের সাথে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।দালালরা চমেকের গাইনি বিভাগের সামনে ওৎপেতে থাকে সারাক্ষন।সিজার রোগীর জন্য ব্লাড আনতে কেউ বের হলেই দালালরা বিভিন্ন কৌশলে তাদেরকে বেসরকারী ব্লাড ব্যাংকে নিয়ে যায়।এর পর চড়া দামে বিক্রি করে রক্ত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্লাড ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান,সন্ধ্যা হলেই ব্লাড ব্যাংক থেকে ব্লাড চুরি হয়ে যায়।চুরি করে বাইরে নিয়ে এসে চমেকের লেবেল তুলে ফেলা হয়।আর এগুলো রাতের আাঁধারে পাচার হয় নগরীর বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংকে।তিনি আরো বলেন,দীর্ঘদিন ধরে এই সিন্ডিকেট সদস্যরা দাপটের সাথে ব্লাড চুরিতে জড়িত থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অদৃশ্য কারনে নিশ্চুপ হয়ে রয়েছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.