সিটিনিউজবিডি : নাটোরের বড়াইগ্রামে শিশু ইমনকে (৯) হত্যার দায়ে বাবা ও সৎ মাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ রেজাউল করিম এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- উপজেলার কামারদহ গ্রামের মৃত আছির উদ্দিনের ছেলে এমদাদুল হক মিলন (৩৮) ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাহিদা বেগম (২৫)।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় ইমন খেলার সময় ৩টি গ্যাস বেলুন নষ্ট করে ফেলে। এতে রেগে গিয়ে মিলনের দ্বিতীয় স্ত্রী নাহিদা বেগম ও বাবা এমদাদুল হক মিলন শিশু ইমনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ইমন কামারদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।
পরে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তারা বৈদ্যুতিক শক লেগে ইমন মারা গেছে বলে এলাকায় প্রচার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিহতের শরীরের কোথাও বিদ্যুতস্পৃষ্টের চিহ্ন না পাওয়ায় এবং নিহতের গলায় কালশিরা দাগ থাকায় সৎ মা ও বাবাকে আটক করে পুলিশ। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে তারা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা কুলসুমা বেগম বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে নাটোর জজ কোটের পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ শুনানি শেষে ঘটনাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় জেলা ও দায়রা জজ রেজাউল করিম এ দুইজনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
বর্তমানে বাবা এমদাদুল হক মিলন আটক থাকলেও সৎ মা নাহিদা বেগম পলাতক রয়েছেন।
