চাঁদাবাজিতে পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : জেলা পুলিশ

0

সিটিনিউজবিডি : পুলিশের কোনো সদস‌্য সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া গাড়ির কাগজপত্র তল্লাশি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

শনিবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে এ ঘোষণা দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) হাবিবুর রহমান।

বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর সরকারি নির্দেশনার কথা জানিয়ে ঈদের আগে সড়কে কোনো ধরনের কাগজপত্র তল্লাশি করা হবে না উল্লেখ করলে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, এখনও কাগজপত্র তল্লাশির নামে পুলিশ সদস্যরা টাকা আদায়সহ বিভিন্ন হয়রানি করছেন।

জবাবে তিনি বলেন, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হবে। চাঁদাবাজির সঙ্গে হাইওয়ে, থানা ও ট্রাফিক পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত থাকলে তাদের ক্লোজ করে লাইনে নিয়ে আসা হবে।

কোনো স্থানে কোনো সংগঠন বা ‘বাহিনীর’ বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান চট্টগ্রাম জেলার এ পুলিশ কর্মকর্তা।

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এক হাটের গরু জোর করে অন্য হাটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আসছে জানিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদেরও নির্দেশ দেন তিনি। অনুমোদনহীন গরুর হাটের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে ঈদে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় ও হয়রানি বন্ধের পাশাপাশি পর্যাপ্ত যানবাহনের ব্যবস্থা রাখার জন‌্য মালিকদের অনুরোধ জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর বলেন, “মালিকরা যদি আমাদের আশ্বস্ত করতে পারে পথে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না এবং সড়কে পর্যাপ্ত যানবাহন আছে- তাহলে আমরা বাইরের কোনো গাড়ি চট্টগ্রামে প্রবেশ করতে দিব না।

“যাত্রী পরিবহনে পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকলে আমরা বাইরে থেকে চট্টগ্রামে গাড়ি প্রবেশ করিয়ে দিব।”

বৈঠকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদের তিনদিন আগে-পরে জরুরি খাদ্য, চামড়াবাহী ট্রাক, কভার্ড ভ্যান, লরি ছাড়া অন্য গাড়ি না চালানোর বিষয়ও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা

বৈঠকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুর বলেন, ঈদে জনগণের নিরাপত্তায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

“রাস্তায় মলম পার্টি, ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টি রোধে পুলিশের টহল ও গোয়ন্দা নজরদারি এবং যানবহন চলাচলে শৃঙ্খলার জন্য অতিরিক্ত ফোর্সও মোতায়েন করা হবে।”

চামড়া পাচার, হাট দখল, জাল টাকা শনাক্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির কথাও জানান পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর।

নিরাপত্তার বিষয় তদারকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তার নেতৃত্বে একটি মনিটরিং টিম কাজ করবে বলেও জানান এই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

বৈঠকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ট্রাফিক, উত্তর) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) রেজাউল মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) একেএম এমরান ভূঁইয়া ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মসিউদৌল্লাহ রেজা উপস্থিত ছিলেন।

আরও ছিলেন বিভিন্ন থানার ওসি, র‌্যাব ও শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.