রাঙামাটিতে সামান্য বৃষ্টিতে বিড়ম্বনায় পর্যটকেরা

0

মোঃ সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি প্রতিনিধি : রাঙামাটি জেলা একটি পর্যটন শহর নামে দেশ-বিদেশে সকলের কাছে পরিচিত। হ্রদ-পাহাড়ের ঘেরা এই রাঙামাটি জেলার সৌন্দর্য্য কোন ভ্রমন প্রিয় মানুষের মন কেড়ে নেয় কিছুক্ষণের জন্য। রাঙামাটিকে কারো কাছে পরিচিত করতে গেলে আগে বলতে হয় এখানে আছে ঝুলন্ত ব্রিজ। কিন্তু এই ঝুলন্ত ব্রিজ পেরিয়ে পাহাড়ে উঠলে যে শিশুদের পার্ক নামের স্থানটি রয়েছে সেখানে তেমন কোন উন্নত মানের শিশুদের খেলার সরঞ্জাম নেই। এছাড়া বৃষ্টির সময় সেখানে ছাউনি না থাকায় পর্যটকদের পরতে হয় বিড়ম্বনায়। ছাউনি না থাকার কারণে দেখা যায় পর্যটকরা গাছের নিচে আশ্রয় নেয় অনেক সময়।

এই প্রসঙ্গে ঢাকা থেকে বেড়াতে আশা আকাশ বলেন, পর্যটন শহর হিসাবে এই রাঙামাটি অনেক সুন্দর। ভালোই লাগছে পর্যটনের এই ঝুলন্ত ব্রিজ দেখতে কিন্তু এখানে শিশুদের জন্য যে খেলনা রয়েছে তা যথেষ্ট নয়। এখানো বাচ্চাদের জন্য আরো সরঞ্জাম রাখার প্রয়োজন। এছাড়া এখানে কোন ছাউনি না থাকায় বৃষ্টির সময় আমি নিজেই বিড়ম্বনায় পড়েছি। এখানে একটি ছাউনি নির্মাণ করা খুবই প্রয়োজন।
সাজিদা আক্তার বলেন, বৃষ্টির সময় পর্যটনে ঘুরতে আসলে সমস্যার মুখামুখি হতে হয়। কারণ এখানে কোন ছাউনি না থাকায় সবাই পাশের দোকানে আশ্রয় নেয়। একটি দোকানে সবাই গাদাগাদি করে দাড়িঁয়ে থাকতে বিরক্ত লাগে।
তিনি আরো বলেন, রাঙামাটি শহরের মধ্যে বেড়ানোর জন্য অন্যতম স্থান যখন এই পর্যটনের ঝুলন্ত ব্রিজ তাই আমাদের মনে হয় এখানে আরো উন্নত মানের শিশুদের জন্য খেলনার সরঞ্জাম রাখা প্রয়োজন এবং বিশেষ করে পর্যটকদের জন্য ছাউনি তৈরি করা প্রয়োজন।
রাঙামাটি পর্যটন ব্যবস্থাপক আলোক চাকমা বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে কনসালন্টেন এসে বিভিন্ন কিছু পরিদর্শন করে গিয়েছেন। তারা অনেক কিছু পরিকল্পনা করেছেন এই পর্যটন নিয়ে। আশা করা যায় কিছুদিনের মধ্যে তারা তাদের পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ শুরু করবেন।
রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য ও পর্যটন উপ-কমিটির আহ্বায়ক অমিত চাকমা রাজুর কাছে পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, রাঙামাটি জেলা পরিষদের হাতে পর্যটন বিষয়ে পরিকল্পনা করা ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা এই বিষয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। ঝুলন্ত ব্রিজটাকে আরো উচু করে সেটাকে উন্নত প্রযুক্তি দ্বারা সুন্দর করার পরিকল্পনা আমাদের আছে। এছাড়া ঝুলন্ত ব্রিজ পার হয়ে পাহাড়ের উপরে যে শিশু পার্কটি রয়েছে সেটাকে আরো উন্নত করে সেখানে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি শিশুদের খেলনার সরঞ্জাম আনার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। তার পাশাপাশি পর্যটকদের বসে বসে রাঙামাটির প্রকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করার জন্য ছাউনি তৈরি করা হবে এবং তাদের জন্য টয়লেটও নিমার্ণ করা হবে। আশা করা যায় আমাদের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে পর্যটকদের যে বিভিন্ন সমস্যায় পরতে হয় তা আর হবে না।
তিনি আরো জানান, এই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রাণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে এবং অর্থ বরাদ্ধ হলে আগামী বছরে কাজ শুরু করবেন জেলা পরিষদ।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.